জাবি মেডিকেলে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে মানববন্ধন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) চিকিৎসাকেন্দ্রে ওষুধ কারচুপি, নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের দাবিতে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’-এর ব্যানারে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে জাবি ছাত্র ইউনিয়ন ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম ফারাবির সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে ওষুধ সংরক্ষণ, বিতরণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সম্প্রতি যে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসাকেন্দ্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনকালে শিক্ষার্থীদের হাতে ‘পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল ইনস্টিটিউট গঠন করো’, ‘শিফটভিত্তিক নারী চিকিৎসক বাড়াও’, ‘স্যানিটারি ন্যাপকিনের সুব্যবস্থা করো’, ‘অ্যাম্বুলেন্স সংখ্যা বৃদ্ধি করো’ ও ‘মেডিকেলে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করো’ লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর জাবি শাখার সংগঠক সোমা ডুমরি বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রে এলে প্রায়ই প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। জরুরি স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা বললে বাইরে থেকে করিয়ে আনতে বলা হয়। এমনকি ভর্তির সময় নির্ধারিত ডোপ টেস্টটিও বাইরে থেকে করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।
চিকিৎসাকেন্দ্রের ওষুধ কারচুপির দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এড়াতে পারে না উল্লেখ করে সোমা ডুমরি আরও বলেন, আমরা এমন একটি চিকিৎসাকেন্দ্র চেয়েছিলাম যেখানে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় সব সেবা মিলবে। অথচ সেখানে ওষুধ চুরির ঘটনা ঘটছে। এই অনিয়মের জন্য প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাযিহা নওয়ার বলেন, মেডিকেলের বাজেট কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে দর-কষাকষি করাই ছিল প্রশাসনের কাজ। কিন্তু তা না করে তারা চুরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত সেবা না পাওয়ায় ভর্তি হওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর সঙ্গেই প্রতারণা করা হচ্ছে। ২০১৯ সালেও হৃদরোগে আক্রান্ত এক শিক্ষার্থী এখানে এসে চিকিৎসাসেবার অভাবে মারা যান। তাই দ্রুত ওষুধ কারচুপির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
.png)





