শিক্ষকদের ক্লাস ও গবেষণামুখী হওয়ার আহ্বান চবি উপাচার্যের

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষাদান ও গবেষণার মানোন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চেয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। তিনি শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণায় মনোযোগ দেওয়ার এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের গবেষণামূলক কাজে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জয়ন্তী উপলক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ’ (২০২৬–২০২৭) উদযাপনকল্পে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে চবির সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চবির উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) এবং চবি নজরুল বর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি হলেও তিনি মূলত বিশ্বমানবতা নিয়ে চিন্তা করতেন। তার লেখনীতে ফুটে উঠেছে অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর। কবি নজরুলের কবিতা, গল্প ও উপন্যাসে রয়েছে গভীর দেশপ্রেম এবং দেশমাতৃকার প্রতি অনাবিল মমত্ববোধ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের তার লেখনীর দেশপ্রেম ও সাম্যের মূল্যবোধ হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু প্রথাগত পড়াশোনার জায়গা নয়, গবেষণা এর একটি অন্যতম প্রধান অংশ। আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে (কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ) উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
নিজের সাম্প্রতিক বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি আমি দুটি দেশ সফর করেছি, যার কোনোটিতেই শিক্ষার্থীদের দলীয় রাজনৈতিক সংগঠন দেখিনি। শিক্ষার্থীরা সেখানে ক্লাবভিত্তিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকে। যেমন— লাহোর ইউনিভার্সিটিতে ৫২টি সক্রিয় ক্লাব রয়েছে। ওখানকার শিক্ষার্থীরা ক্লাব, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ক্যাম্পাসের পরিবেশ উন্নয়নে ব্যস্ত থাকে।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমার সহকর্মী শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান—আপনারা ক্লাসে ও গবেষণায় মনোনিবেশ করুন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও গবেষণায় যুক্ত করুন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে যাবতীয় সহায়তা প্রদান করবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণার চারণভূমি উল্লেখ করে উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী এক বছরের মধ্যে গবেষণার ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করতে বর্তমান প্রশাসন বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি চবিকে দেশের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ, আদর্শ এবং গবেষণাধর্মী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
.png)






