শিক্ষিকা রুনার পরিবারের পাশে ইবি, এক দিনের বেতন কাটার উদ্যোগ

হত্যাকাণ্ডের শিকার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে শিক্ষকদের এক দিনের বেতন কর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে শিক্ষকদের সম্মতি জানতে প্রতিটি বিভাগের সভাপতির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি থেকে বিষয়টি জানা গেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রয়াত সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান তাদের চার সন্তানের লালন-পালনের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদের কাছে আবেদন করেছেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জিয়া পরিষদের সভাপতি শিক্ষকদের এক দিনের বেতন কর্তনের আগে প্রত্যেক শিক্ষকের সম্মতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। এ কারণে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে অবহিত করতে মূল আবেদনপত্রটি সংযুক্ত করে বিভাগীয় সভাপতিদের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের মতামত ও সম্মতি সংগ্রহ করে তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ২১ এপ্রিল ইবি জিয়া পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করেন নিহত শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। আবেদনে তিনি বলেন, গত ৪ মার্চ আমার স্ত্রী আসমা সাদিয়া রুনা কর্মরত অবস্থায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তার মৃত্যুর পর আমাদের চার সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। আমি নিজেও প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগে থাকায় গত পাঁচ বছর ধরে কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। ফলে সন্তানদের লালন-পালন ও শিক্ষা ব্যয় নির্বাহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং শিক্ষকদের আর্থিক সহযোগিতা পেলে আমার তিন কন্যা ও এক পুত্রসন্তানের ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও নিরাপদ হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, এর আগে গণিত বিভাগের শিক্ষক আ. মালেক মুনওয়ার হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুর পর তার পরিবারের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একদিনের বেতন প্রদান করার নজির রয়েছে। তবে কোনো শিক্ষকের পূর্বসম্মতি ছাড়া বেতন কর্তন আইনসম্মত নয়। তাই এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে বিভাগীয় সভাপতিদের মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষকের সম্মতি গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, প্রতিটি বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিভাগগুলো থেকে ইতিবাচক মতামত পাওয়া গেলে শিক্ষকদের একদিনের বেতন কর্তন করা হবে।
.png)






