স্কুল পালানো পাপ্পুই এখন ৪৭তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডার

একসময় প্রায় প্রতিদিনই স্কুল পালাতেন। ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো পরিকল্পনাও ছিল না। সেই বোহেমিয়ান কিশোরই আজ ৪৭তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী পাপ্পু সরকার।
বর্তমানে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত পাপ্পু সরকার জানান, কর্মব্যস্ত দিনের মাঝেই বন্ধুর ফোনে জানতে পারেন ৪৭তম বিসিএসের ফল প্রকাশ হয়েছে। পরে ফলাফলের তালিকায় নিজের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণত আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। কিন্তু নিজের নাম দেখতে পেয়ে চোখ ভিজে উঠেছিল। এটি শুধু একটি চাকরি পাওয়ার আনন্দ নয়, বরং দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতি।’
পাপ্পুর মতে, মানুষের অতীত কখনোই তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। একসময় ক্লাসরুম এড়িয়ে চলা সেই শিক্ষার্থীই আজ দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।
নিজের অতীতের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি স্কুলজীবন পর্যন্ত পুরোপুরি বোহেমিয়ান ছিলাম। প্রায় প্রতিদিনই স্কুল পালাতাম। তখন আমার একমাত্র স্বপ্ন ছিল, জীবনে কিছুই না করা।’
তবে সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে ফেলেন তিনি। লক্ষ্য ঠিক করেন, নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী হন এবং ধীরে ধীরে নিজের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তার ভাষায়, ‘লক্ষ্য যখন কিছুই না করা, তখনও জীবনে অনেক কিছু করা সম্ভব—যদি একসময় নিজেকে বদলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।’
বিসিএস প্রস্তুতি নিয়েও তিনি প্রচলিত ধারা থেকে কিছুটা ভিন্ন পথ বেছে নেন। শুরুতে অল্প সময় কোচিং করলেও পরে বুঝতে পারেন, নিজের পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক চেষ্টাই সবচেয়ে কার্যকর। এরপর মূলত স্বশিক্ষার ওপর নির্ভর করেই প্রস্তুতি চালিয়ে যান। পূর্ণকালীন ব্যাংকের চাকরির পাশাপাশি বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়াকে তিনি সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পাপ্পু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে লেগে থাকাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ব্যাংকের চাকরি করার পাশাপাশি নিয়মিত বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়ার মানসিক শক্তি ধরে রাখা খুবই কঠিন ছিল।’





