logo

মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার ৪

মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার ৪
ভাঙচুরের পর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি কেন্দ্রে। ছবি : প্রথম আলো থেকে নেওয়া

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি কেন্দ্রে মধ্যরাতে তাণ্ডব, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার দুপুরে চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করলেও তাদের পরিচয় জানায়নি পুলিশ।

ওসি বলেন, আসামিরা অর্থের বিনিময়ে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন; তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার জানান, রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় অবস্থিত ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি কেন্দ্র’-এ মধ্যরাতে মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের তাণ্ডব, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় প্রতিষ্ঠানটির একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জমি দখলের উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে প্রায় ২৫০ জন মুখোশধারী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। তারা শুরুতেই দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ভবনে প্রবেশ করে। এরপর ক্লিনিকে থাকা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকা প্রদানের রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার সরঞ্জাম, ল্যাবরেটরি রিএজেন্ট, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ জরুরি সব চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

রাড্ডা কর্তৃপক্ষ বলেছে, হামলাকারীরা ওষুধ, ভ্যাকসিন, সরকারি টিকাদান কর্মসূচির রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দেড় কোটি টাকার বেশি বলে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মিরপুরের বিএনপি নেতা মো. হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে বলে গতকাল পুলিশ জানিয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি ও দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

যদিও হানিফ মিয়া অবশ্য ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গতকাল শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, খবর পেয়ে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে উৎসুক জনতাকে সেখানে দেখতে পায় এবং মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে আজ তিনি বলেছেন, ভাঙচুরের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।

পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই কীভাবে এত বড় পরিসরে ভাঙচুর ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলল এবং তখন কাউকে আটক করা হলো না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর হোসেন স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছিলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। জায়গা বা স্থাপনা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করতে হবে বলেল জানান তিনি।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। সরকারি ইপিআই কর্মসূচিও সেখানে পরিচালিত হতো।