যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

রাজধানীর উত্তরায় ব্যক্তি মালিকানা ও সরকারি জমির ওপর গড়ে উঠা ফলের আড়তের দোকান ভাড়ার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, জামানতের নামে ৫০ কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন যুবলীগ নেতা আনোয়ার। এমনকি ভাড়ার নামে নিয়মিত চাঁদাবাজির অভিযোগও করেছেন ব্যবসায়ীরা।
রোববার (২১ জুন) উত্তরার স্লুইচগেট এলাকায় দুপুর ২টার দিকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উত্তরার বিসমিল্লাহ্ ফলের আড়তটি কয়েকজন ব্যক্তি মালিক ও সরকারি জায়গার ওপর গড়ে উঠেছে। অথচ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যুবলীগ নেতা আনোয়ার বাজারের ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে জামানত বাবদ ৫০ কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। সেই সঙ্গে দোকান প্রতি ভাড়া আদায় করতেন তিনি। কিন্তু এতদিন ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেনি।
বিসমিল্লাহ্ ফলের আড়ত ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল্লাহ মতিন বেপারি বলেন, ‘প্রথমে চায়ের দোকানদার ছিল। পরে বাজারের একটি বাথরুম ভাড়া নিয়েছে। আর আমাদের কাছ থেকে জামানতের নামে ৫০ কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। আওয়ামী লীগের আমলেও যুবলীগ নেতা আনোয়ার এমপি-মন্ত্রীর দাপট দেখাইছে। এখন আবার বিএনপির আমলেও এমপি-মন্ত্রীর দাপট দেখাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রায় ৫০ কোটি টাকা লুটপাট করে আজ সে আরামে বসে আছে। অথচ আমাদের টাকা বা দলিল দেওয়ার কোন খবর নেই। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যুবলীগ নেতা হওয়ায় কিছু বলতে পারিনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে টাকা অথবা দলিলের জন্য আন্দোলন করছি আমরা। এক পর্যায়ে ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার কারণে আমার নামে বৈষম্যবিরোধীর মিথ্যা মামলা দিয়ে ১৮ মাস জেল খাটাইছে।’
মতিন আরও বলেন, ‘আমরা টাকা ফেরত অথবা দলিল দাবি করলে ফের আমাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানোর হুমকি দিচ্ছে আনোয়ার। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তার স্ত্রী ফাতেমাও। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমাদের কাছ থেকে নেওয়া ৫০ কোটি টাকা না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ ঢাকা-১৮ আসনের এমপির কাছে এর বিচার চাই।’
ওই ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের আমালে যুবলীগ নেতা আনোয়ারের আমাদের ফল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জামানত বাবদ ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কিন্তু টাকার কোন দলিল দেয়নি। আবার টাকাও ফেরত দেয়নি।’
তিনি বলেন, ‘যার কারণে আমরা ব্যবসায়ীরা আজ মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি। আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই। নাহলে টাকার ডকুমেন্টস চাই। আনোয়ার এখন পালিয়ে থাকলেও তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে তার স্ত্রী ফাতেমা দোকান ভাড়া তুলছে। আমরা আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত ভাড়া দিব না।’






