এক প্রশ্নপত্রে ৮০ ভুল

এশিয়া পোস্ট নিউজ, পিরোজপুর
এক প্রশ্নপত্রে ৮০ ভুল
ভুলেভরা প্রশ্নপত্র। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় খাসমহল লতিফ ইনস্টিটিউশনের ষষ্ঠ শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে প্রায় ৭০-৮০টি বানান ভুল নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একটি প্রশ্নপত্রে কীভাবে এতগুলো ভুল থাকতে পারে, এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা।

জানা গেছে, বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে ষষ্ঠ শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণের পর এই ভুলগুলো নজরে আসে। ভুলেভরা প্রশ্নপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড দেওয়া হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ভাইরাল হওয়া প্রশ্নপত্রে দেখা যায়, পুরো প্রশ্নজুড়েই রয়েছে ভুল বানানের ছড়াছড়ি।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ২০২৬ সালের প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ প্রশ্নপত্রে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রশ্ন আসায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও অভিভাবকদের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশ্নের মান যদি এই হয়, তাহলে লেখাপড়ার মান নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই কোনো কুচক্রী মহল এমন ভুলে ভরা প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।

এ বিষয়ে খাসমহল লতিফ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, প্রি-টেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্ন আমরা নিজেরা প্রণয়ন করি না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রশ্ন সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা কমিটি পরীক্ষার দিনই তা খোলে। আগে থেকে প্রশ্ন দেখার কোনো সুযোগ থাকে না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার নজরুল ইসলাম বলেন, স্কুলের প্রশ্ন বাইরে থেকে করার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকের কাছ থেকেই প্রশ্ন নেওয়ার কথা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রশ্ন এড়িয়ে চলা উচিত ছিল। তা ছাড়া বানান ভুলের ছড়াছড়ির বিষয়টিও গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা কমিটির প্রশ্নটি যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী আযিযী বলেন, একটি প্রশ্নপত্রে বিপুলসংখ্যক বানান ও ভাষাগত ভুল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশ্ন প্রণয়ন, পর্যালোচনা ও মুদ্রণের প্রতিটি ধাপে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হবে।

বিষয় :পিরোজপুর