খুলনায় গুলিবিদ্ধের ৩৯ দিন পর মারা গেলেন মামুন

খুলনার রূপসায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৩২ দিন পর মো. মামুন মীর (৩৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মাথায় ও চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ঢাকা ও খুলনায় চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের চেষ্টা করা হলে পুলিশ খবর পেয়ে তা আটকে দেয় এবং লাশ মর্গে পাঠায়।
নিহত মামুন মীর রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকার নেয়ামত মীরের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের আবু সালেহীন প্রতিবন্ধী স্কুলের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মামুন গুরুতর আহত হন। এ সময় তার মাথা ও চোখে গুলি লাগে। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘদিন তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চিকিৎসা শেষে রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মামুনকে ঢাকা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রূপসার মসজিদ-এ-আকসায় নিহতের জানাজা শেষে লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দাফন স্থগিত করে। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জাহিদ জানান, গত ১৮ আগস্ট রাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মামুন গুরুতর আহত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং ২১ সেপ্টেম্বর রাতে বাড়িতে নিয়ে আসার পর তার মৃত্যু হয়।
ওসি আরও বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে লাশ দাফনের চেষ্টা করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। মামুনকে কে বা কারা গুলি করেছিল তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
