এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশ/পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ পাওয়া সেই ১৪৩ কর্মী তদন্তের মুখে

রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘটনা তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি এবার বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত ১৪৩ জন আউটসোর্সিং কর্মীকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসন ও অর্থ শাখা থেকে গত ২৭ জুলাই জারি করা এক নোটিশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গত ১৮ জুলাই ‘পরীক্ষা ছাড়াই রাজশাহীর নির্বাচন অফিসে নিয়োগ পেলেন ১৪৩ জন’ এ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে এশিয়া পোস্ট। এরই প্রেক্ষিতে এ তদন্ত কমিটি গঠন করল নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নোটিশে বলা হয়, রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘কেএসএফ ট্রেড লিমিটেড’-এর মাধ্যমে ১৪৩ জন আউটসোর্সিং কর্মী সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্তে ২৯ জুন গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে।
নোটিশে আরও জানানো হয়, আগামী ৩০ জুলাই সকাল ১০টায় রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দি গ্রহণ করবে তদন্ত কমিটি। এ জন্য ওই কার্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া ১৪৩ জন আউটসোর্সিং কর্মীকে (৫ জন গাড়িচালক, ৬৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৬৯ জন নিরাপত্তা প্রহরী) উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাজিরা দেওয়ার সময় কর্মীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণাদি সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের অভিভাবক বা প্রতিনিধিও সঙ্গে থাকতে পারবেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে অভিযোগ ওঠে, কোনো ধরনের উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়াই আউটসোর্সিংয়ের এসব পদে লোক বল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে এক একটি পদের বিপরীতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।
অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘এশিয়া পোস্ট’-এ এ সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে নির্বাচন কমিশনের এবং তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে অনিয়মের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেএসএফ ট্রেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামীম হোসেন।
তার দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি এবং কারো কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও সত্য নয়।
এদিকে তদন্ত কমিটির সামনে ১৪৩ জন কর্মীর সরাসরি জবানবন্দি গ্রহণের সিদ্ধান্তকে এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত শেষ হলে শিগগিরই কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
.png)







