শিশুকে হেপাটাইটিস থেকে সুরক্ষায় টিকা ও অভিভাবকের সচেতনতা জরুরি

বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। শিশুদের এ ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে সময়মতো টিকা দেওয়ার পাশাপাশি মা-বাবার পরীক্ষা, সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের মিনার্ভা হাসপাতালে আয়োজিত সচেতনতামূলক সেমিনার ও বিনামূল্যের স্ক্রিনিং ক্যাম্পে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে হেপাটোলজি বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম সাঈদুল হক বলেন, হেপাটাইটিস বি শনাক্ত হলেই সঙ্গে সঙ্গে ওষুধ সেবন শুরু করা উচিত নয়। এইচবিভি ডিএনএ, লিভার এনজাইম, আলট্রাসনোগ্রাম এবং প্রয়োজনে ফাইব্রোস্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে রোগের অবস্থা মূল্যায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি মদ্যপান বন্ধ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকা উচিত।
বারডেম হাসপাতালের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. জেবুন নাহার বলেন, শিশুদের হেপাটাইটিস থেকে সুরক্ষিত রাখতে অভিভাবকদের সর্বাগ্রে সচেতন ও সতর্ক হতে হবে। মা-বাবার হেপাটাইটিস পরীক্ষা করানো এবং আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকা জরুরি। একই সঙ্গে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হেপাটাইটিস বি টিকা দিতে হবে।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মমতাজুল হক বলেন, হেপাটাইটিস বি টিকা একটি নিরাপদ ও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা। এটি ৯৫ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দিতে পারে। কয়েক দশক ধরে বিশ্বজুড়ে এ টিকা প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রমাণিত।
এর আগে সকালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রায় ৩০০ জনকে বিনামূল্যে হেপাটাইটিসের স্ক্রিনিং সেবা দেওয়া হয়। পরে বেলা ২টার দিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে একটি সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা প্রদক্ষিণ করে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
চিকিৎসক মিতুর সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. শামীমা সুলতানা, ডা. ফারহানুল জান্নাত, ডা. লুৎফুন নাহার মুক্তা, ডা. তন্বী সাহা এবং ডা. আশরাফুল আলম।
সেমিনারের শেষ পর্যায়ে মিনার্ভা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. নাজনীন সুলতানা অংশগ্রহণকারী রোগী, চিকিৎসক ও অতিথিদের ধন্যবাদ জানান। তিনি হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি এ ধরনের জনসেবামূলক ও মানবিক উদ্যোগে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
.png)





