স্ত্রীকে হত্যার পর উঠানে মাটিচাপা, নিখোঁজের জিডি করতে গিয়ে ধরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, মৌলভীবাজার
স্ত্রীকে হত্যার পর উঠানে মাটিচাপা, নিখোঁজের জিডি করতে গিয়ে ধরা
বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার স্ত্রীর মরদেহ ও ঘাতক স্বামী আলমগীর হোসেন। ছবি : এশিয়া পোস্ট কোলাজ

মৌলভীবাজারের রাজনগরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে এসে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ঘাতক স্বামী আলমগীর হোসেন (২৭)।

হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৫ দিন পর সোমবার (৬ জুলাই) নিজ বাড়ির উঠান থেকে স্ত্রী জাহেদা বেগমের (৩৮) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আলমগীর হোসেন তার স্ত্রী জাহেদাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আলমগীর গভীর রাতে বসতবাড়ির উঠানের একপাশে গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন। হত্যাকাণ্ডের বেশ কয়েক দিন পেরিয়ে যাওয়ার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় নিতে এক চাল চালেন আলমগীর। তিনি নিজেই রোববার (৫ জুলাই) রাজনগর থানায় গিয়ে পুলিশকে জানান যে, তার স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছেন এবং এই মর্মে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে চান। একই সঙ্গে তিনি পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে দাবি করেন, তার স্ত্রী কাউকে না জানিয়ে বিদেশে চলে গেছেন।

তবে জিডি করার সময় আলমগীরের অসংলগ্ন কথাবার্তা ও সন্দেহজনক আচরণে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তার মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশের তীব্র জেরার মুখে নিজের স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ মাটিচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন আলমগীর। ঘাতক স্বামীর দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে রাজনগর থানা পুলিশ তার বাড়ির উঠান খুঁড়ে জাহেদা বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া বলেন, ঘাতক আলমগীর হোসেনকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।