শিশুশিক্ষার্থীকে দিয়ে মালিশ করানো নারী শিক্ষকের নামে বিভাগীয় মামলা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নীলফামারী
শিশুশিক্ষার্থীকে দিয়ে মালিশ করানো নারী শিক্ষকের নামে বিভাগীয় মামলা
শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরীর মালিশ করাচ্ছেন দুই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই নারী শিক্ষক। ছবি কোলাজ: এশিয়া পোস্ট

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় শিশুশিক্ষার্থীকে দিয়ে শরীর মালিশ করানোর ঘটনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নারী শিক্ষকের নামে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। আরেকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত দুই নারী শিক্ষক হলেন ডিমলা উপজেলার চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কাজলী আক্তার এবং খগাবড়বাড়ী বালিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তিলোত্তমা রানী রায়।

ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে চারঘড়ি চাপানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে সহকারী নারী শিক্ষক কাজলী আক্তারের পা মালিশ করানোর দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে হলে বিষয়টি সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কাজলী আক্তারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে। এর আগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বিভাগীয় মামলা হয়। একইসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে তাকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। শরীর ম্যাসাজ করানো নারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

খগাবড়বাড়ী বালিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তিলোত্তমা রানী রায়ের বিরুদ্ধেও এক ছাত্রীকে দিয়ে শরীরে মালিশ করানোর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, দুটি বিদ্যালয়ের ঘটনায় পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও অবগত রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।