যেভাবে ১১৫ দিন পর হরমুজ পার হলো বাংলার জয়যাত্রা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
যেভাবে ১১৫ দিন পর হরমুজ পার হলো বাংলার জয়যাত্রা
ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে আটকে পড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ অবশেষে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে।

Advertisement

সোমবার (২২ জুন) রাত তিনটার দিকে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিকসহ জাহাজটি পারস্য উপসাগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা অতিক্রম করে।

এর আগে, তিন দফায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অনুমতি চেয়েও ব্যর্থ হয়েছিল জাহাজটি। দীর্ঘ ১১৫ দিনের উৎকণ্ঠার পর অবশেষে মুক্ত হলো জাহাজটি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর সময় জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ছিল। যুদ্ধের কারণে পরে এটি আটকা পড়ে। সিঙ্গাপুরের ‘দাবা প্রাইভেট লিমিটেড’ কোম্পানির অধীনে চার্টার করা এই জাহাজে সৌদি আরব থেকে দক্ষিণ আফ্রিকাগামী ৩৭ হাজার টন সার রয়েছে।

ঝুঁকি এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হলেও প্রথম দিকে সফলতা আসেনি। তবে সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে তেল নিয়ে ‘এমটি নর্ডিক পোলক্স’ নামের একটি ট্যাংকার হরমুজ অতিক্রম করার পর নতুন করে কৌশল সাজায় বিএসসি।

জাহাজটির মাস্টার ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক আমাকে সাহস ও বিশেষ নৌ-কৌশলের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের চার্টারার প্রতিষ্ঠানও আমাদের ফুজাইরা বন্দরের দিকে রওনা হওয়ার লিখিত নির্দেশনা দেয়। ইরানের বাহিনী তখন বেতার বার্তায় সামরিক জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছিল।

ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল পারস্য উপসাগরের নোঙর এলাকা থেকে রওনা হয়ে তারা ইরানের বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাননি। অন্য কিছু জাহাজের দেখাদেখি তারা অত্যন্ত ধীরগতিতে অগ্রসর হতে থাকেন।

যুদ্ধের কারণে ইরানের উপকূল ঘেঁষে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হয়েছে। ওপরে ড্রোন এবং নিচে মাইন বা সাবমেরিনের চরম আতঙ্ক থাকলেও আল্লাহর রহমতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পার হওয়া সম্ভব হয়। বিএসসি নিশ্চিত করেছে, এই পারাপারের জন্য ইরানকে কোনো টোল দিতে হয়নি।

জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকেলে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে নোঙর করে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করবে। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

পুরো অভিযানটি সফল না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল। পারাপারের সময় রাতভর নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানসহ মন্ত্রণালয় ও বিএসসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন। সফলভাবে পার হওয়ার পরই বিএসসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, নৌ কলাকৌশল কাজে লাগিয়ে এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঠিক দিকনির্দেশনায় নাবিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই দুঃসাহসিক অভিযান সফল হয়েছে।