মাটির নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন স্বর্ণালংকার, টাইলস বসাতে গিয়ে পান মিস্ত্রি

বাড়িতে চলছিল নির্মাণকাজ। বাইরের লোকজনের আনাগোনা থাকায় প্রায় ২৯ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিলেন গৃহকর্ত্রী। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস- টাইলস বসানোর সময় মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে সেই গুপ্তধন। এরপর কৌশলে সেই স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট দুই টাইলস মিস্ত্রির।
তবে শেষ পর্যন্ত তাদের সেই কাণ্ড ধরা পড়ে বাড়ির সিসি ক্যামেরায়। পরে পুলিশের অভিযানে একজন গ্রেপ্তার হন এবং উদ্ধার করা হয় চুরি যাওয়া অধিকাংশ স্বর্ণালংকার।
ঘটনাটি ঘটেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মুন্দা মাঝের গ্রামে। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) গাংনী থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী।
মামলার বাদী মোছা. নার্গিস বানু বলেন, তার একমাত্র ছেলে শাহীন কুয়েত প্রবাসী। ছেলের পাঠানো টাকায় বাড়ির একতলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। গত ৩০ জুন থেকে পাঁচজন টাইলস মিস্ত্রি কাজ করছিলেন। বাড়িতে বাইরের লোকজন থাকায় নিজের ও দুই মেয়ের ব্যবহৃত প্রায় ১১ ভরি ১৪ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার একটি প্লাস্টিকের কৌটায় রেখে পলিথিনে মোড়িয়ে অবস্থায় বাড়ির উঠানের সিঁড়ির পাশে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখেন। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ২৯ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকা।
গত রোববার (৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মিস্ত্রিরা কাজ শেষ করে চলে যাওয়ার পর তিনি দেখতে পান, যেখানে স্বর্ণালংকার রাখা হয়েছিল সেখানে মাটি খোঁড়া। পরে খুঁজে স্বর্ণালংকার না পেয়ে বিষয়টি প্রবাসী ছেলেকে জানান।
শাহীন বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখেন, বিকেল ৪টা ২৩ মিনিটের দিকে টাইলসের কাজ করা দুই মিস্ত্রি মাটি খুঁড়তে গিয়ে প্লাস্টিকের কৌটাটি পেয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলে সেটি নিয়ে বাড়ির পেছনের দিকে চলে যান। পরে স্থানীয়দের সামনে ফুটেজ দেখানো হলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বানিয়াপাড়া বারাদি গ্রামের মোমিন খান ও আলালকে শনাক্ত করা হয়।
এরপর গাংনী থানা ও বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে আলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পলাতক মোমিন খানের শ্বশুরবাড়ি থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের বড় একটি অংশ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে দুটি নেকলেস, তিন জোড়া কানের দুল, একটি ব্রেসলেট, তিনটি চেইন, একটি লকেট, সাতটি বালা এবং একটি বেঙ্গল বালা।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজাদ্দিদ মোরশেদ চৌধুরী বলেন, পলাতক আসামি মোমিন খানকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান।





