বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদনদীর পানি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সুনামগঞ্জ
বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদনদীর পানি
সুনামগঞ্জের সুরমা নদী। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জের সুরমা, রক্তি, যাদুকাটা, বোলাইসহ অন্যান্য নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে পাওয়া তথ্যানুযায়ী সুরমা নদীর পানি দুটি পয়েন্টে ৩৩ ও ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বুধবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার মধ্যনগর উপজেলার মহেশখলা একাকায় ১০২ মিলিমিটার ও দিরাই উপজেলা সদর এলাকায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্ট বিপৎসীমার ১.০৮ মিটার নিচ দিয়ে ৬.৭১ মিটারে প্রবাহিত হয়েছে।

ছাতক উপজেলার সদর এলাকায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে এবং সুরমা নদীর পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ০.৯৭ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক বলেন, সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় এলাকায় আরও তিন দিন অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি আসায় সুরমা ও অন্যান্য নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল হলে নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জে অতিভারী এবং উজানে ভারতের মেঘালয় প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ভারতের মেঘালয় প্রদেশের মাউসিনরাম এলাকায় ১৩৮ মিলিমিটার, আর কে এম সোহরা এলাকায় ১১৬ মিলিমিটার ও চেরাপুঞ্জিতে ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া সংস্থার তথ্যানুযায়ী, আগামী তিন দিন সুনামগঞ্জ ও উজানের ভারতের মেঘালয় প্রদেশে ভারী থেকে অতিভারী এবং পরবর্তী আরও দুই দিন মাঝারি-ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

গত ২৪ ঘন্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা, রক্তি ও বৌলাই নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিন পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘন্টায় সুনামগঞ্জের কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে পারে ও নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।

সুনামগঞ্জ শহরের উত্তর আরপিন নগর (সাহেব বাড়ি ঘাট) এলাকার বাসিন্দা আল আমিন বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হলে ও নদীর পানি বাড়লে শহর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সজিব হোসাইন বলেন, পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৭২ ঘণ্টা সুনামগঞ্জ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর বৃষ্টিপাত কমবে এবং বর্ষাকালের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে ৭২ ঘণ্টা পর বিস্তারিত জানা যাবে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান বলেন, বন্যার পূর্বাভাস অনুযায়ী পরস্থিতি মোকাবিলায় জেলা-উপজেলা প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। উদ্ধার কাজের জন্য নৌযান, স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত রাখা রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রয়েছে, শুকনো খাবার মুজত রাখা রয়েছে এবং মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।