বৃষ্টিতে বাগেরহাটে জলাবদ্ধতা, ক্ষতিগ্রস্ত ৭০২ হেক্টর ফসলি জমি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বাগেরহাট
বৃষ্টিতে বাগেরহাটে জলাবদ্ধতা, ক্ষতিগ্রস্ত ৭০২ হেক্টর ফসলি জমি
ছবি: এশিয়া পোস্ট

উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে কয়েকদিন ধরে টানা ও থেমে থেমে হওয়া ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পৌর শহরসহ জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্নআয়ের মানুষ। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টির কারণে কৃষি খাতেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা। ইতোমধ্যে জেলার ৭০২ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

মোংলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনও এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাট পৌর শহরের শালতলা, মুনিগঞ্জ, পৌরসভা এলাকা, কেন্দ্রীয় কাঁচাবাজার, ফলপট্টি মোড়, মারিয়া পল্লী ও সদর হাসপাতাল মোড়সহ বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমেছে। এতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনায় পরিবেশ নাজুক হয়ে উঠেছে।

কেন্দ্রীয় কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী তুষার দেব বলেন, ভোররাত থেকে টানা বৃষ্টিতে কাঁচাবাজার ও পৌরসভার সামনের সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে গেছে। অনেক দোকানে পানি ঢুকেছে। ময়লা-আবর্জনা ভেসে আসায় পরিস্থিতি আরও খারাপ রূপ নিয়েছে।

মুনিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বাড়ি থেকে বের হতে চরম কষ্ট হয়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়।

রিকশাচালক রিপন হোসেন বলেন, বৃষ্টি হলেই পৌরসভার সামনের সড়ক হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে মোটরচালিত রিকশার যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়, ভাঙা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়েও রিকশার ক্ষতি হয়। এই আয়ের একটা বড় অংশই চলে যায় এগুলো মেরামত করতে।

অতিবৃষ্টিতে কৃষি খাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, জেলায় ৭০২ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আউশ ধান, রোপা আমনের বীজতলা, মরিচ এবং বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেত। দীর্ঘ সময় জমিতে পানি জমে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।

এদিকে বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, এখন পর্যন্ত জেলার কোনো মাছের ঘের প্লাবিত হয়নি। তবে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ঘের তলিয়ে মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি।

অন্যদিকে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার নদ-নদীর পানির স্তর কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।

বাগেরহাট পৌরসভার প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, পৌরসভার সব নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে আমাদের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে পানি জমেছে। বৃষ্টি কমে গেলে দ্রুত পানি নেমে যাবে বলে আশা করছি।

বিষয় :বাগেরহাট