খুলনায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলির প্রতিবাদে সহকর্মীদের মানববন্ধন

খুলনায় কয়েকজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) উদ্যোগে এ কর্মসূচি আয়োজিত হয়।
এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা নগরীর জাতিসংঘ শিশুপার্কের পশ্চিম পাশে গুলির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার প্রতিবাদে এমইউজের সভাপতি মো. রাশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফিকুল আলম মনা, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, দৈনিক খুলনাঞ্চলের সম্পাদক মিজানুর রহমান মিল্টন, নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব বাবুল হাওলাদার এবং স্থানীয় সাংবাদিক হাসান হিমালয়, আশরাফুল ইসলাম নুর, আব্দুর রাজ্জাক রানা, সৈয়দ রানা কবির, রফিউল ইসলাম টুটুল, জিয়াউস সাদাত, আনারুল ইসলাম কাজল, এম এ হাসান, মাকসুদ আলী, প্রবীর বিশ্বাস, শাহজালাল মোল্লা মিলন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা চার সাংবাদিককে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুলিগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট না হলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারত। আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গুলিগুলো যদি লক্ষ্যভেদ করত, তাহলে হয়তো হাসপাতালের জরুরি বিভাগ কিংবা কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে শোক প্রকাশ করতে হত। এই হামলাকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চলছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও সরকারকে বিব্রত ও বিতর্কিত করার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন, অতীতের বহু সাংবাদিক নির্যাতনের বিচার না হওয়ায় হামলাকারীরা বারবার উৎসাহিত হচ্ছে। খুলনা মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা কঠিন হওয়ার কথা নয়। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে হামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সাংবাদিক নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।





