এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশ, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের অনাস্থা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নীলফামারী
এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশ, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের অনাস্থা
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ছবি: সংগৃহীত


এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশের পর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ওরফে গ্রেনেড বাবুর বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছেন পরিষদের সদস্যরা। সরকারি খাস জমি ও পুকুর দখল, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে এই অনাস্থা এনে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তারা।

অভিযোগে বলা হয়, চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং প্যানেল চেয়ারম্যান ইকবাল আলী ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ এককভাবে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো স্বচ্ছতা না রেখে সদস্যদের মতামত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করারও অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমি দখল করে ব্যক্তিগত স্থাপনা নির্মাণ, বাজারের দোকান বরাদ্দ ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মসহ ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব কারণে চেয়ারম্যানের প্রতি পরিষদের সদস্যদের আর কোনো আস্থা নেই জানিয়ে তদন্তপূর্বক তাদের অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এজারুল হক বলেন, আমরা ৯ জন সদস্য স্বাক্ষর করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি। এর আগেও কয়েকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছিলাম, কিন্তু তখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমাদের কয়েকজন সদস্য চেয়ারম্যানের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চুপ ছিলেন। তবে এবার সংবাদটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এরপর সবাই একসঙ্গে বসে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেই।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগের পর চেয়ারম্যান কয়েকজন সদস্যকে টাকা দিয়ে ও ভয় দেখিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর নেন। ওই দুই সদস্য আমাদের জানিয়েছেন, বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ওই স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিলেন, তিনি সরকারি জায়গাকে সৌন্দর্যবর্ধন করেছেন এবং আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হওয়া উচিত।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগের কোনো অনুলিপি এখনও তার হাতে পৌঁছায়নি। তবে অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।