বাম্পার ফলনেও হাসি নেই আখ চাষিদের

উত্তরের জেলা নীলফামারীতে দিন দিন বাড়ছে আখের চাষ। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের আগ্রহে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, রোগবালাইয়ের প্রকোপ, বাজারমূল্যের অস্থিরতা এবং সরকারি প্রণোদনার অভাবে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন চাষিরা। তাদের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামীতে অনেক কৃষক আখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নীলফামারীতে ১৭৭ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। জেলার সদর, কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলায় বিশেষ করে ঈশ্বরদী-১৬, ঈশ্বরদী-১৭ এবং বিএসআরআই-৪১, ৪৫ ও ৪৭ জাতের আখের আবাদ বেশি হয়েছে। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এবার বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই দেখা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। কীটনাশক প্রয়োগ করেও অনেক ক্ষেত্রে রোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, যার ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং লাভের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।

নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের বসুনিয়া বাজার এলাকার কৃষক ধীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, ছোটবেলা থেকেই সঠিক পরিচর্যা করলে আখে রোগবালাই কম হয়। প্রতি বিঘায় আগে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হলেও বর্তমানে সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেওয়া হলে কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন এবং আখ চাষে আরও আগ্রহী হবেন।
একই ইউনিয়নের কৃষক শিখনাথ রায় জানান, তিনি ১৫ শতাংশ জমিতে আখের আবাদ করেছেন। লাভজনক হওয়ায় আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে আখ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার। তবে সময়মতো রোগবালাই দমনের ওষুধ প্রয়োগ না করলে পচন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
আরেক চাষি মিজানুর রহমান বলেন, কয়েক বছর ধরে আমি আখ চাষ করে ভালো লাভ পেয়েছি। বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে আখ চাষে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই না হলে প্রতি বিঘা থেকে এক থেকে দেড় লাখ টাকার আখ বিক্রি করা সম্ভব। জেলার বিভিন্ন এলাকায় আখের চাহিদা ভালো থাকলেও রোগবালাই দেখা দিলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা থাকে।
গোড়গ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা তুষার বলেন, উৎপাদন খরচ ধারাবাহিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সরকারি সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে অনেক কৃষক আখ চাষে আগ্রহ হারাবেন।

এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হোমায়রা বলেন, আখ চাষিদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা দিতে কৃষি বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। নীলফামারীর বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ, জলঢাকা ও সদর উপজেলার মাটি আখ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার উৎপাদিত আখ রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও ব্যাপক।
তিনি আরও বলেন, আখের জমিতে সাথী ফসল হিসেবে সরিষা, বাদাম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মিষ্টিকুমড়া ও স্কোয়াশসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করা সম্ভব। এতে একই জমি থেকে কৃষক অতিরিক্ত আয় করতে পারেন।




