স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও ভূরুঙ্গামারীতে হয়নি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুড়িগ্রাম
স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও ভূরুঙ্গামারীতে হয়নি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন
ছবি : সংগৃহীত

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও এখনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন পায়নি সীমান্তঘেঁষা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা। ফলে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাড়ছে জানমাল ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চালু না হওয়ায় চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন উপজেলার সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ভূরুঙ্গামারী উপজেলা। অথচ দীর্ঘদিনেও এখানে নির্মিত হয়নি কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। ফলে কোথাও আগুন লাগলে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের নাগেশ্বরী উপজেলা থেকে ছুটে আসতে হয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের। দূরত্ব বেশি হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক সময় লেগে যায়। সম্প্রতি ভূরুঙ্গামারী বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০৫টি দোকান পুড়ে যায়, যাতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান বলেন, ভূরুঙ্গামারীতে এখনো একটি ফায়ার স্টেশন স্থাপন না হওয়ায় দিন দিন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। আমাদের উপজেলায় কোথাও আগুন লাগলে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের আসতে হয়। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আগুনে অনেক সময় ঘরবাড়ি, ফসল ও সহায়-সম্পদ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই আমি ভূরুঙ্গামারী উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত এখানে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হোক।

ভুরুঙ্গামারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ারুল হক বলেন, আমাদের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের বসবাস। স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে এখনো একটি ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হয়নি। ফলে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের কোথাও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় না। দূরবর্তী এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিস আসতে দেরি হওয়ায় অনেক সময় মানুষকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তাই জনস্বার্থে দ্রুত ভুরুঙ্গামারীতে একটি ফায়ার স্টেশন স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।

গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ভূরুঙ্গামারীতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কয়েক দফা স্থান নির্ধারণের পর প্রকল্পের জন্য বরাদ্দও আসে। এমনকি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম ও রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ে পড়ে আছে। তবে জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থেমে আছে পুরো প্রকল্পের কার্যক্রম। এদিকে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, দূরত্ব বেশি হওয়ায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয় না, যার ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর উপ-পরিচালক মো. এনামুল হক বলেন, জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ভূরুঙ্গামারী ফায়ার স্টেশন স্থাপনের কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই ফায়ার স্টেশনটির নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।