চাঁদাবাজির প্রতিবাদে তিন নদীতে অনির্দিষ্টকালের নৌ ধর্মঘট

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার রক্তি, যাদুকাটা ও পাটলাই নদীতে বালু-পাথর পরিবহনকারী নৌযান থেকে বিআইডব্লিউটিএর টোল আদায়ের নামে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা। এর প্রতিবাদে আগামী ২৮ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের নৌ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে যাদুকাটা নদীর গড়কাটি এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে এ ধর্মঘটের ঘোষণা দেয় ‘যাদুকাটা ব্যবসায়িক শ্রমিক ও নৌ মালিক সমিতি’। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি বহাল থাকবে বলে জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, গত এক মাস ধরে বিআইডব্লিউটিএ ও টোল আদায়ের নামে বালু-পাথর পরিবহনকারী নৌযান থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। তাই এমন কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি।
তারা আরও অভিযোগ করেন, জামালগঞ্জ উপজেলার সুরমা নদীর লালপুর এলাকায় বালু-পাথর লোড ও আনলোড-উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি ঘনফুটের বিপরীতে ২ টাকা ৮০ পয়সা করে বিআইডব্লিউটিএর নামে টোল নেওয়া হচ্ছে। দেশের অন্য কোথাও এ ধরনের টোল আদায়ের নজির নেই। রক্তি নদীর একই এলাকায় বিআইডব্লিউটিএর নামে দুটি পৃথক টোল আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়া রক্তি নদীর মোহনায় কোনো পণ্য পরিবহন না করলেও শুধু নৌকা নিয়ে প্রবেশের জন্য ৩ হাজার টাকা করে দিতে হচ্ছে।
যাদুকাটা ব্যবসায়িক শ্রমিক ও নৌ মালিক সমিতির সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, নদীপথের অল্প দূরত্বের মধ্যে একাধিকবার অবৈধ অর্থ আদায় করায় আমরা চরম সংকটে পড়েছি। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই এই কঠোর কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে যাদুকাটা ব্যবসায়িক শ্রমিক ও নৌ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক মিয়া, স্থানীয় বালু-পাথর ব্যবসায়ী নুর উদ্দিন, মোবাশ্বির আলম হিমেল, হাকিকুল ইসলামসহ নৌযান মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
.png)


-a6e156.jpg)

-83043b.jpg)

