সাকিব-হৃদয়ের পর ব্যাটে ঝড় সোহানের, এলপিএলে বাংলাদেশের দিন
-278631.jpg)
শ্রীলঙ্কার ডাম্বুলায় রোববার যেন ছোটখাটো বাংলাদেশি প্রদর্শনীই হয়ে গেল। বিকেলের ম্যাচে জাফনা কিংসের জয়ে ব্যাট হাতে অবদান রাখলেন তাওহীদ হৃদয়, বল হাতে উজ্জ্বল সাকিব আল হাসান। রাতের ম্যাচে গল গ্যালান্টসের হয়ে ওপেনিংয়ে নেমেই ঝড় তুললেন নুরুল হাসান সোহান।
ক্যান্ডি রয়্যালসের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৯৯ রান তুলেছিল জাফনা। বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেন দুই ওপেনার কামিল মিশারা ও অভিষকা ফার্নান্দো। উদ্বোধনী জুটিতে তাঁরা যোগ করেন ১২৯ রান।
মাত্র ৩৬ বলে ১০টি চার ও দুটি ছক্কায় ৬৬ রান করেন অভিষকা। অন্য প্রান্তে ৫৩ বলে ছয়টি চার ও চারটি ছক্কায় ৭৮ রান আসে মিশারার ব্যাট থেকে।
দুই ওপেনারের গড়ে দেওয়া মঞ্চে শেষের কাজটি করেন হৃদয়। চাপ বাড়তে থাকা শেষের ওভারগুলোয় রানের গতি ধরে রেখে ২১ বলে অপরাজিত ৩৫ রান করেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার। তাঁর ইনিংসে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা। হৃদয়ের ব্যাটে শেষ ওভার থেকে ১৯ রান তুলে দুইশর কাছাকাছি পৌঁছে যায় জাফনা।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত উইকেট হারায় ক্যান্ডি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আক্রমণে আসা সাকিব রান আটকে রাখার পাশাপাশি ফেরান মঈন আলীকে। তিন ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।
সাকিবকে চতুর্থ ওভার করতে হয়নি। তার আগেই ১৮ দশমিক ২ ওভারে ১০৬ রানে গুটিয়ে যায় ক্যান্ডি। ৯৩ রানের বড় জয়ে পাঁচ ম্যাচে তৃতীয় জয় তুলে নেয় জাফনা। ম্যাচসেরা হন মিশারা।
একই মাঠে দিনের পরের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন সোহান। গলের একাদশে জায়গা হয়নি মেহেদী হাসান মিরাজের। তবে সুযোগ পেয়েই ব্যাটিং অর্ডারে বড় চমক পান সোহান। স্যাম হার্পারের সঙ্গে তাঁকে পাঠানো হয় ইনিংস উদ্বোধন করতে।
সেই সিদ্ধান্তের প্রতিদান দিতে খুব বেশি সময় নেননি সোহান। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ডাম্বুলার বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। মাত্র ২১ বলে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৪০ রান, যার ২৯ রানই সোহানের।
দুশমন্থ চামিরার বলে আউট হওয়ার আগে ১৩ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ২৯ রান করেন সোহান। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২২৩ দশমিক ০৮। ছোট হলেও কার্যকর ইনিংসটি গলের বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি করে দেয়।
সোহানের ঝোড়ো শুরুর পর পাওয়ারপ্লেতে ১ উইকেটে ৭৬ রান তোলে গল। এরপর হার্পারের ২৭ বলে ৪১ এবং চারিথ আসালাঙ্কার ২০ বলে ৩১ রানে এগিয়ে যেতে থাকে দলটি। শেষ দিকে আসল ঝড় তোলেন চামিকা করুণারত্নে। চারটি চার ও ছয়টি ছক্কায় মাত্র ৩৪ বলে অপরাজিত ৭২ রান করেন তিনি।
নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২২০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় গল। ডাম্বুলার হয়ে চামিরা ৫৫ রান খরচ করলেও তুলে নেন পাঁচ উইকেট। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রান তাড়ায় ১০ দশমিক ১ ওভারে ৪ উইকেটে ৮২ রান তুলেছিল ডাম্বুলা।
.png)





