Advertisement

ফটিকছড়িতে সদর দপ্তর ইস্যুতে একদিকে হরতাল, অন্যদিকে আনন্দ মিছিল

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
ফটিকছড়িতে সদর দপ্তর ইস্যুতে একদিকে হরতাল, অন্যদিকে আনন্দ মিছিল
ফটিকছড়িতে সদর দপ্তর ইস্যুতে একদিকে হরতাল, অন্যদিকে আনন্দ মিছিল। ছবি : এশিয়া পোস্ট

নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে দেখা দিয়েছে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া। সদর দপ্তর ভৌগোলিকভাবে যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে তিন ইউনিয়নে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালিত হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় সদর দপ্তর স্থাপনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে হরতালের প্রথম দিনে দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও বাগানবাজার ইউনিয়নে জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে। অধিকাংশ দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষ, যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়েন।

এর আগে, গত ২১ জুলাই ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে ২৬ জুলাই থেকে ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। হরতালের অংশ হিসেবে রোববার সকাল থেকে দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও বাগানবাজার এলাকার বাজারগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। গহিরা–হেয়াকো সড়ক এবং ফেনী–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকার সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। বালুটিলা, চিকনছড়া, হেয়াকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাট এলাকায় আন্দোলনকারীরা পিকেটিং ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। পিকেটিং চলাকালে শান্তিরহাট ও দাঁতমারা বাজারের ফাঁকা সড়কে আন্দোলনকারীদের খেলাধুলা করতেও দেখা যায়।

ফেনী থেকে খাগড়াছড়িগামী যাত্রী জুয়েল চাকমা বলেন, বালুটিলায় গাড়ি আটকে দেওয়ায় বাধ্য হয়ে খাগড়াছড়ির রামগড় পর্যন্ত হেঁটে যেতে হয়েছে। বাগানবাজারে আটকে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানের চালক জসিম উদ্দিন বলেন, যান চলাচল বন্ধ থাকায় সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান একরামুল হক বাবুল, সমন্বয়ক নুরুল আমিন আজাদ এবং হাসান শামসুদ্দীন বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার। যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর স্থানান্তর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, একই দিন বিকেলে পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় সদর দপ্তর স্থাপনের সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ভূজপুর ন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সমাবেশ ও আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা অংশ নেন। সমাবেশে ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএইচএম শাহজাহান চৌধুরী শিপন এবং হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, সরকারি গেজেটে নির্ধারিত পশ্চিম ভূজপুর মৌজাতেই থানাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রশাসনিক সুবিধা রয়েছে। তাই সেখানে উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত।

এদিকে, নবগঠিত উপজেলার অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করেছেন সুয়াবিল ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত সদর দপ্তর তাদের এলাকা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে, যেখানে বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলা সদর মাত্র ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে। নতুন উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হলে প্রশাসনিক সেবা পেতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হবে। তারা মূল ফটিকছড়ি উপজেলার সঙ্গেই বহাল থাকার দাবি জানান।

এ বিষয়ে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, হরতালের কারণে সড়ক যোগাযোগ কিছুটা ব্যাহত হলেও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিকেল পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।