Advertisement

অর্থকষ্টে জুলাই শহীদ মেহেদীর বাবা-মা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, পটুয়াখালী
অর্থকষ্টে জুলাই শহীদ মেহেদীর বাবা-মা
জুলাই শহীদ মেহেদী হাসানের কবরস্থানের নামফলক। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ছোট একটি টিনের ঘর। যে ঘরে থাকেন মেহেদী হাসানের মা-বাবা। মেহেদী ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হন। তিনি পেশায় ছিলেন সাংবাদিক। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি মারা যান। ছেলেকে হারানোর পর মেহেদীর পরিবারকে অনুদান দেয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। সেই অনুদানের টাকার ভাগ নিয়ে শুরু হয় বিরোধ।

সম্প্রতি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামে মেহেদী হাসানের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, ঘরে মা-বাবা টাঙিয়ে রেখেছেন শহীদ সন্তানের ছবি। সঙ্গে রয়েছে কিছু স্মৃতিচিহ্ন এবং সন্তানের কবরটিই এখন তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র সান্ত্বনা।

দুই বছর পেরিয়ে গেলেও মেহেদীর মা-বাবার কাছে সময় যেন থেমে আছে সেই ১৮ জুলাইয়ে। ২০২৪ সালের সেদিন রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার এলাকায় সংবাদ সংগ্রহকালে গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা টাইমসের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেদী হাসান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সন্তানের ছবি হাতে মেহেদী হাসানের মা। ছবি: এশিয়া পোস্ট
সন্তানের ছবি হাতে মেহেদী হাসানের মা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মেহেদীর মা-বাবার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই দম্পতির সংসারে নেই কোনো নিয়মিত আয়ের উৎস। ওষুধ কেনা, চিকিৎসা করানো কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

জীবিত অবস্থায় মেহেদীর উপার্জনে গ্রামে মা ও বাবা, ছোট ভাই এবং ঢাকায় স্ত্রী-সন্তানদের সংসার চলত। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি যেমন একজন প্রিয় মানুষকে হারিয়েছে, তেমনি হারিয়েছে তাদের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে।

মেহেদীর বাবা-মায়ের অভিযোগ, ছেলে মারা যাওয়ার পর জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন, ঢাকা টাইমস, নিউজ টোয়েন্টিফোরসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে পরিবারকে প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। কিন্তু তারা শুধু পেয়েছেন সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া ১০ লাখ টাকা। সরকার থেকে দেওয়া মাসিক ভাতার এক-তৃতীয়াংশ তাদের হাতে আসে। বাকি অর্থ ও ভাতার অংশ মেহেদীর স্ত্রী ফারহানা গ্রহণ করছেন।

মেহেদীর বাবা মোশাররফ হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ছেলে দেশের জন্য জীবন দিল। কিন্তু আজ আমরা দুবেলা ঠিকমতো খেতে পারি না। বয়স হয়েছে, কাজ করার শক্তি নেই। ওষুধ কেনার টাকাও অনেক সময় জোটে না।

ছবিতে সন্তানকে দেখাচ্ছেন মেহেদী হাসানের বাবা। ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবিতে সন্তানকে দেখাচ্ছেন মেহেদী হাসানের বাবা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চোখের পানি মুছতে মুছতে মা মাহমুদা বেগম বলেন, আমার ছেলে যদি বেঁচে থাকত, তাহলে আমাদের এই কষ্ট দেখতে হতো না। প্রতিদিন তার কবরের কাছে যাই, দোয়া করি আর কাঁদি।

অভিযোগ অস্বীকার করে মেহেদীর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম পপি বলেন, আমি দুই সন্তানকে নিয়ে নিজেও অনেক কষ্টে আছি। অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ বা কাউকে বঞ্চিত করার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, সরকারিভাবে মাসিক ভাতার টাকা নিয়ম অনুযায়ী শহীদ পরিবারের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়ে যায়। সাংবাদিক মেহেদী হাসানের মা ও বাবার কোনো সংকট থাকলে বিষয়টি দেখব।