হত্যার পর মায়ের মরদেহ ফেলে রাখে কলাবাগানে, গ্রেপ্তার ছেলে

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চাঁদপুর
হত্যার পর মায়ের মরদেহ ফেলে রাখে কলাবাগানে, গ্রেপ্তার ছেলে
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার অভিযুক্ত মো. জনি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একটি নির্জন কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় নারীর অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের আট দিনের মাথায় নিহতের ছেলে মো. জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) চাঁদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় এলাকার একটি কলাবাগান থেকে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহের বিভিন্ন অংশ বিকৃত হয়ে যায়। এতে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থলে পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কাজ শুরু করলেও প্রথমদিকে নিহতের পরিচয় বা হত্যার কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি।

মামলাটি জটিল হওয়ায় চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে এবং মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ফোনের লোকেশন বিশ্লেষণ, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের মাধ্যমে একপর্যায়ে মো. জনির ওপর সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জনি ছোটবেলা থেকেই পারিবারিক নানা কারণে মায়ের প্রতি ক্ষোভ পুষে রেখেছিলেন। তার দাবি, মা একাধিক বিয়ে করায় তিনি বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে মামার বাড়িতে অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছেন।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গত ১৭ জুন জনি তার মা মজিদা বেগমকে ছেংগারচর বাজার থেকে অটোরিকশায় করে কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যান। সেখানে জমে থাকা পানিতে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ।

হত্যার পর নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি কাছের একটি পুকুরে ফেলে দেন। পরে জনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার করে।

মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ সূত্রবিহীন। নিহতের পরিচয় কিংবা কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা আমাদের দায়িত্ব।

সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, মামলাটি তদন্ত দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকৃত অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবেন।