Advertisement

ফ্যামিলি কার্ড শুমারি পরীক্ষায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বাগেরহাট
ফ্যামিলি কার্ড শুমারি পরীক্ষায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ
নীলফামারীর ডোমার উপজেলা পরিষদ ভবনে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কর্মী নিয়োগ পরীক্ষা হয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কর্মী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক পরীক্ষার্থী। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে—এমন আশঙ্কায় তারা চরম হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষায় নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন থেকে বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী অংশ নেন। তবে পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের বাইরে অনেক পরীক্ষার্থী নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

পরীক্ষার্থী আসাদুল্লাহ আল মাদানী বলেন, অনেকে ভাইভা না দিয়েই চলে গেছেন। আমি ভাইভা দিতে গেলে শুধু কয়েকটি প্রশ্ন করেই বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। ভাইভা বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে কোনো গাম্ভীর্য ছিল না। এখানে বিভিন্নজনের সুপারিশের তালিকা জমা দেওয়া হচ্ছে শুনে অনেকেই পরীক্ষা না দিয়েই চলে যান।

আরেক পরীক্ষার্থী রহিম ইসলাম বলেন, আমি অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছি। ভাইভাতে আমাকে মোট ১৬ থেকে ১৭টি প্রশ্ন করা হয়েছিল এবং আমি সবগুলোরই সঠিক উত্তর দিয়েছি। কিন্তু আমি যত উত্তর দিচ্ছিলাম, আমাকে থামানোর জন্য আরও বেশি প্রশ্ন করা হচ্ছিল।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমার সামনেই রাজনৈতিক নেতাদের নামের তালিকা নিয়ে ভেতরের কক্ষে জমা দেওয়া হচ্ছিল। তাহলে আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের মূল্য কোথায় থাকল? আমরা কি এই নাটক দেখার জন্য পরীক্ষা দিতে এসেছি? প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি—অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ফলাফল যেন সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়।

পরীক্ষার্থী মাহির মিলন বলেন, ভাইভার নামে এই নাটক সাজানোর কোনো প্রয়োজন ছিল না। রাজনৈতিকভাবেই যদি প্রার্থী নির্বাচন করা হবে, তবে এতগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীকে ডেকে এনে হয়রানি করা হলো কেন? একজন নারী নেত্রী পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে আমাকে বললেন—‘আমাদের সব আগের থেকেই ঠিক করা আছে, এটা শুধু একটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।’

এদিকে আবেদন ফরম পূরণের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার আগের রাতে যাচাই-বাছাই শেষে অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ ফরমগুলো বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ডোমার উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদ ও ইউনিয়ন সমাজকর্মী আরিফুল ইসলামের টেবিলে বাতিল হওয়া ফরমগুলোর কিছু পুনরায় এনে পূরণ করিয়ে জমা নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা নিয়মের বাইরে কোনো কাজ করিনি।’

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডোমার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কামরুজ্জামান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বীকে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ দেওয়া হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।