টাঙ্গাইলে লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়নের সুতিনালী দিঘিরপাড় এলাকায় দুস্থ ও অসহায় মানুষের আবাসন নিশ্চিতে নির্মিত সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত অসহায়দের বঞ্চিত করে সরকারি ঘর কেনাবেচার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, ২০২৩ সালে প্রকল্পের আওতায় সেখানে ১১০টি ঘর নির্মাণ করে উপকারভোগীদের হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘর বরাদ্দের সময় তৎকালীন শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ঘরপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অন্তত সাতটি ঘর এক থেকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, আবাসনটিতে কোথাও আট থেকে ১০ সদস্যের একটি পরিবার মাত্র একটি ঘরে বসবাস করছে, আবার দুই থেকে তিন সদস্যের কোনো পরিবার পেয়েছে দুটি ঘর। অথচ অনেক ঘরে তালা ঝুলছে, কেউ কেউ অন্যত্র বসবাস করছেন এবং কিছু ঘর দীর্ঘদিন খালি ও অযত্নে পড়ে রয়েছে।
ফরমান নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি আকাশ নামে একজনের কাছ থেকে এক লাখ টাকায় একটি ঘর কিনেছেন। তবে তদন্তে দেখা গেছে, সরকারি তালিকায় ফরমানের নিজের নামেও একটি ঘর বরাদ্দ রয়েছে।

জোছনা নামের এক বাসিন্দা বলেন, আমি ৩৫ বছর ধরে এখানে থাকি। আমাদের পরিবারে ১১ জন সদস্য, অথচ একটি মাত্র ঘর পেয়েছি। অন্যদিকে অনেকেই ঘর বিক্রি করে চলে গেছেন। বিক্রি করা ঘরগুলো উদ্ধার করে আমাদের মতো প্রকৃত অসহায়দের দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
রিমি নামের এক তরুণী বলেন, শ্বশুর-শাশুড়িসহ আমরা একটি ঘরে থাকি। যারা ঘর পেয়েছিল, তাদের কেউ কেউ বিক্রি করে চলে গেছে। প্রশাসনের কাছে আবেদন, এসব ঘর যেন আমাদের মতো পরিবারকে দেওয়া হয়।
শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুস্তম আলী বলেন, ঘর বিক্রির অভিযোগ পেয়েছি। সরকারি ঘর বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত করে বিক্রি হওয়া ঘরগুলো চিহ্নিত করা হবে এবং প্রকৃত দুস্থদের মধ্যে পুনরায় বরাদ্দের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মধুপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি জেনেছি। সরকারি ঘর বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যারা ঘর বিক্রি করেছেন, তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মধ্যে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে।
মধুপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আশ্রম প্রকল্পের ঘর বিক্রি বিষয়ে আমি অবগত নই, আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম, তবে সরকারি ঘর বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এ রকম ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)






