Advertisement

ববিতে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে হামলা, সাংবাদিকসহ আহত ১৫

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ববি
ববিতে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে হামলা, সাংবাদিকসহ আহত ১৫
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক। ছবি : সংগৃহীত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে অতর্কিত হামলায় চার সাংবাদিক ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিক ও ছাত্রদলের একটি অংশের ওপর দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত হাসান মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক ও গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, একটি ফেসবুকে পেজে এক শিক্ষার্থীর অনাকাঙ্ক্ষিত ভিডিও পোস্ট করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে ববি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু উবাইদা ও সাংবাদিক আব্দুল কাদের জীবনকে নভোথিয়েটারের সামনে ডেকে নেন সিফাত নামের এক শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদল নেতা হাসান মাহমুদ। সেখানে কিছু বুঝে ওঠার আগেই হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে তাদের ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়।

এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা ছাত্রদলের অন্য কর্মীরা সাংবাদিকদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে তারাও হামলার শিকার হন। মারধরের শিকার হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ শিকদার। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়, যা এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি রাকিব হাসান রকি, সহক্রীড়া সম্পাদক নাহিদ হাসান এবং সহসাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম।

আহত সহসভাপতি রাকিব হাসান রকি অভিযোগ করে বলেন, শাখা ছাত্রদলের সভাপতি পরিকল্পিতভাবে এই হামলার নির্দেশনা দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এর পরিকল্পনা চলছিল। আমি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের একটি বলয়ের নেতৃত্ব দিই এবং সভাপতির বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় আমাকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়েছে। মূলত ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ক্রীড়া সম্পাদক হাসানকে দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

আরেক ভুক্তভোগী সহক্রীড়া সম্পাদক নাহিদ হাসান বলেন, আমাদের ওপর আচমকা বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। পূর্বপরিকল্পিত এই হামলায় দেশি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। আমি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করছি।

ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ক্রীড়া সম্পাদক হাসান মাহমুদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি আশিক আহমেদ বলেন, আমার সামনেই আহনাফকে তুলে নিয়ে পিটিয়েছে হাসান। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তির প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যাতে তাকে দ্রুত একাডেমিক শাস্তি দেয়, আমরা সেই অনুরোধ জানাব।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্ত বলেন, আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা বা ইন্ধনের প্রমাণ পাওয়া গেলে কেন্দ্রীয় সংসদ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে। অপরাধী যেই হোক, দলীয় পরিচয় কখনোই অন্যায়ের ঢাল হতে পারে না।