বিয়ের একদিন পর মসজিদ থেকে মোয়াজ্জিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, দেখে মামার মৃত্যু

নীলফামারীর ডিমলায় মসজিদের ভেতর থেকে আব্দুল মালেক নামে এক মোয়াজ্জিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের কাকড়া গ্রামের মুনাকাসাপাড়া বায়তুন নূর জামে মসজিদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আব্দুল মালেক (২১) কাকড়া গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে। তিনি ওই মসজিদের মোয়াজ্জিন ছিলেন। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আব্দুল মালেকের বিয়ে হয়।
এদিকে মোয়াজ্জিনের মরদেহ দেখে বাড়ি ফেরার পর আব্দুল মালেকের মামা আহিদুল ইসলাম (৪৫) মারা গেছেন বলে জানা গেছে। তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। আহিদুল ইসলাম একই গ্রামের মৃত নছের আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার এশার নামাজ শেষে মুসল্লিরা মসজিদ ত্যাগ করেন। সবার শেষে আব্দুল মালেকও মসজিদ থেকে বের হয়ে গেছেন। তবে রাত ১টার দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তি মসজিদে গিয়ে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
ডিমলা থানা পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী বলেন, রাত প্রায় ২টার দিকে আমি খবর পাই। আব্দুল মালেক ওই মসজিদের মোয়াজ্জিন ছিলেন এবং মাঝে মধ্যে ইমামতিও করতেন।
তিনি আরও বলেন, মসজিদের ভেতরে আব্দুল মালেকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর তার মামা আহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বাড়িতে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। মাত্র একদিন আগে আব্দুল মালেক বিয়ে করেছিলেন। একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক।
একই দিনে মামা-ভাগনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে কাকড়া গ্রাম। বিশেষ করে বিয়ের মাত্র একদিনের মাথায় আব্দুল মালেকের আকস্মিক মৃত্যু গ্রামবাসীকেও গভীরভাবে শোকাহত করেছে।





