মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় ছুরিকাঘাতে খুন, দুজনকে গণপিটুনি

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নে মাদকসেবনে বাধা দেওয়া কেন্দ্র করে ফারুক হোসেন শহীদ নামে এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে খুন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরশাদ হোসেন ওরফে আকা ও আকাশ নামে দুজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ১১টার দিকে শহীদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। রাত আড়াইটার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সে শহীদের মৃত্যু হয়।
নিহত ফারুক হোসেন শহীদ (৫০) উপজেলার উত্তর সুন্দলপুর এলাকার শহীদ মিস্ত্রির নতুন বাড়ির চৌধুরী মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় তেঁতুলতলা বাজারে ফার্নিচারের ব্যবসা করতেন।
স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় আরশাদ হোসেন আকা ইট দিয়ে আঘাত করে তার বাবা আমিন মিয়ার মাথা ফাটিয়ে দেন। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। ওই ঘটনার পর ব্যবসায়ী শহীদ অভিযুক্ত আকাকে মাদকসেবন থেকে বিরত থাকতে এবং এলাকা ছেড়ে যেতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আকা বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল থেকেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে শহীদকে খুঁজতে থাকেন।
বুধবার রাত ১১টার দিকে তেঁতুলতলা বাজারে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে পাশের পল্লী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের সামনে যান শহীদ। সেখানে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সময় আকা পেছন থেকে এসে ধারালো ছুরি দিয়ে তার কোমরের ডান পাশে আঘাত করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আকা ও তার সহযোগী আকাশকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গুরুতর আহত শহীদকে প্রথমে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। ঢাকা নেওয়ার পথে চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সে শহীদের মৃত্যু হয়।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া বলেন, নিহতের মরদেহ নোয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।





