Advertisement

জনপ্রতিনিধিরা সাড়া দেননি, নিজ উদ্যোগে রাস্তা মেরামত গ্রামবাসীর

এশিয়া পোস্ট নিউজ, জয়পুরহাট
জনপ্রতিনিধিরা সাড়া দেননি, নিজ উদ্যোগে রাস্তা মেরামত গ্রামবাসীর
গ্রামের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্থ সংগ্রহ করে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের রসুলপুর পকপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না পেয়ে গ্রামের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্থ সংগ্রহ করে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামুদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর পকপাড়া গ্রামে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস। গ্রামের একমাত্র ইটসলিং সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, সড়কটি সংস্কারের জন্য তারা মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যসহ দায়িত্বশীলদের কাছে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা নিজেরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে অর্থ সংগ্রহ করেন। পরে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের রাস্তা মেরামত করতে দেখা যায়। তারা বলেন, পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে সড়কটিতে সলিং করা হয়েছিল। এরপর আর কোনো সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে যেমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তেমনি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরাও প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজার রহমান, ইউসুফ আলী, জালাল উদ্দিন, একরামুল হক, মিঠু মিয়া, হাশেম আলী ও আসলাম হোসেন বলেন, বারবার ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের কাছে গিয়েও কোনো সুফল পাইনি। তাই গ্রামের মানুষ একজোট হয়ে নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা চাই দ্রুত সড়কটি কার্পেটিং করা হোক, যাতে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান হয়।

এ বিষয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম বলেন, গ্রামবাসী আমার কাছে এসেছিল। বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় কাজ করা সম্ভব হয়নি।

মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিলন মন্ডল বলেন, এলাকাবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে সড়কটির স্থায়ী উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী বলেন, গ্রামবাসী নিজেদের অর্থায়নে রাস্তা মেরামত করছেন—এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আগামী বরাদ্দে সড়কটির উন্নয়নকাজ অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।