ইডি কর্মচারীদের আন্দোলনে স্থবির গ্রামীণ ডাকসেবা

বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি এবং দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করার দাবিতে ঝিনাইদহসহ সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন ডাক বিভাগের এক্সট্রা ডিপার্টমেন্টাল (ইডি) কর্মচারীরা।
গত ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের কারণে ঝিনাইদহের গ্রামীণ ডাকসেবা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। জরুরি চিঠিপত্র, চাকরির নিয়োগপত্র, জমির পর্চা ও তালাকের নোটিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডাক সময়মতো বিলি না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ গ্রাহকরা।
আন্দোলনরত কর্মচারীদের অভিযোগ, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও সরকারি ডাক বিভাগের ইডি কর্মচারীরা অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। তারা মাসে মাত্র ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৪৬০ টাকা ভাতায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। এই ভাতার বাইরে তাদের কোনো বিভাগীয় স্বীকৃতি, উৎসব ভাতা বা ঈদ বোনাসের ব্যবস্থা নেই। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই সামান্য আয় দিয়ে পরিবার চালাতে তাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
কর্মচারীরা জানান, ২০১৮ সালে আন্দোলনের পর তৎকালীন সরকার ভাতা বৃদ্ধির আশ্বাস দিলেও গত আট বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে পূর্ণ কর্মবিরতি ও ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্দোলনকারীরা ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
গোপালপুর শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার রিপন হোসেন বলেন, ‘ঝিনাইদহ জেলার ১০৪টি শাখা ডাকঘরে প্রায় ৩০০ জন এবং সারা দেশের ৮ হাজার ৫৪৩টি শাখা ডাকঘরে মোট ২৩ হাজার ২১ জন ইডি কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এই সামান্য ভাতায় সংসার চালানো এখন আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।’
এদিকে ডাকসেবা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। মিজানুর রহমান নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘চাকরির জরুরি কাগজপত্র আসার কথা ছিল। কিন্তু পোস্ট অফিসে এসে জানতে পারলাম, কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছে। সময়মতো চিঠি না পেলে আমার ক্যারিয়ারে বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।’
বর্তমানে একজন ইডি শাখা পোস্টমাস্টার মাসে ৪ হাজার ৪৬০ টাকা, ইডিডিএ পিয়ন ৪ হাজার ৩৫৪ টাকা, ইডিএমসি রানার ৪ হাজার ১৭৭ টাকা এবং ইডি নাইট গার্ড ৪ হাজার টাকা ভাতা পান।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘ইডি কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে গ্রামীণ এলাকার ডাকসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি কাগজপত্রগুলো যথাসম্ভব গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। কর্মচারীদের দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। ওপর মহলের সিদ্ধান্ত এলে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




