নদী ভাঙনে হুমকির মুখে ‘সাহেবের ঘাট’ সেতু

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ফেনী
নদী ভাঙনে হুমকির মুখে ‘সাহেবের ঘাট’ সেতু
ছবি: এশিয়া পোস্ট

ছোট ফেনী নদীর অব্যাহত ও তীব্র নদী ভাঙনের ফলে চরম হুমকির মুখে পড়েছে দুই জেলার সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ‘সাহেবের ঘাট সেতু’। ফেনীর সোনাগাজী ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাকে যুক্ত করা এই সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক পানির তোড়ে ধসে পড়ায় মূল কাঠামোটি এখন ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় প্রশাসন ইতোমধ্যে সেতুর ওপর দিয়ে ভারী ও বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ।

Advertisement

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের সাহেবের ঘাট ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের সংযোগস্থলে ছোট ফেনী নদীর ওপর এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সালের জুনে ৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ২০১৯ সালের জুনে শেষ হয়। ১১টি স্প্যান ও ৫৫টি গার্ডার বিশিষ্ট এই দীর্ঘ সেতুটি ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল।

সেতুটি চালুর পর নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর সোনাগাজী অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখী পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহনগুলো ফেনীর মহিপাল এলাকার তীব্র যানজট এড়াতে এই বিকল্প রুটটি ব্যবহার শুরু করে। এতে যাতায়াত সময় ও দূরত্ব অনেকাংশে কমে আসায় দ্রুতই এই অঞ্চলটি বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে শুরু করে। কিন্তু বর্তমানে ছোট ফেনী নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত পাড় ভাঙনের কারণে সেতুর গোড়ার মাটি ও সংযোগ সড়ক ধসে গেছে।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত ‘মুছাপুর ক্লোজার’ ভেঙে যাওয়ার কারণে নদীর গতিপথ বদলে ফেনীর সোনাগাজী অঞ্চলের দিকে ভাঙন তীব্র হয়েছে। এছাড়া নির্মাণকালীন ত্রুটি, টেকসই রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং সেতুর দুই পাশে যত্রতত্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সেতুটি আজ খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে।

সেতুর ইজারাদার ও সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল আলম সুমন বলেন, সেতুর একপাশ বন্ধ করে ভাঙন রোধের কাজ চলায় যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। বড় গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় টোল আদায় কমে গেছে। দ্রুত স্থায়ী সংস্কার না হলে ইজারার টাকা ওঠানোই অসম্ভব হয়ে যাবে।

সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবদীন বাবলু বলেন, নির্মাণ ত্রুটির কারণে গত বন্যার সময় ব্রিজের দুই দিকেই চরম ক্ষতি হয়। বন্যা-পরবর্তী সময়ে সাময়িক সচল করা হলেও এখন অবৈধ বালু উত্তোলন ও ভারী যান চলাচলের কারণে এটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। বর্ষা মৌসুমের আগেই স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সোনাগাজী উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শামস নাহিয়ান হিমেল বলেন, বিগত সময়ের নির্মাণত্রুটি ও অবৈধ বালু উত্তোলনই এই সংকটের জন্য দায়ী। সরকার আশু পদক্ষেপ না নিলে নোয়াখালীর সাথে ফেনীর যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, যতদূর জানি এ বিষয়ে ফেনীর সড়ক ও জনপথ বিভাগ কাজ করছে। বিষয়টি তারা ভালো বলতে পারবেন। নদীর দুই পাশে খননের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ফেনীর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, মুছাপুর ক্লোজার ভেঙে যাওয়ায় নদীর গতিপথ বদলে ফেনীর সোনাগাজী অঞ্চলের দিকে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ফলে সাহেবের ঘাট সেতুটি হুমকির মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী আন্তঃমন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দুই পাশে স্টিলের গার্ডার ও বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙন ঠেকাতে ব্রিজের এক পাশ বন্ধ করে কাজ চলছে। কিন্তু নদীর জোয়ার-ভাটার কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। উভয় পাশে চর কেটে নদীর গতিপথ না বদলালে ব্রিজটি রক্ষা করা কঠিন হবে।

ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক এশিয়া পোস্টকে বলেন, ব্রিজের দুই পাশে ভাঙনের বিষয়ে আমি অবগত। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেখানে কাজ করছে। জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটি রক্ষায় আর কী ধরনের টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা সওজ-এর সাথে কথা বলে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

বিষয় :ফেনী