গাজী নজরুলের এমপি পদ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে পৃথক এই কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নেন। সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতা ব্যানারে মানববন্ধন এবং সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
প্রথমে শ্যামনগর প্রেসক্লাব চত্বরে ‘সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। এখন দলীয় বহিষ্কারের পাশাপাশি তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকেও অপসারণের দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি উদ্যোগ নিতে হবে।
মানববন্ধনে আলেমদের পক্ষে বক্তব্য দেন মুফতি মাওলানা আবদুল কাইয়ুম। তিনি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন অনৈতিক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তার এমন কর্মকাণ্ডে শ্যামনগরসহ দেশের আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন মুফতি মাওলানা আবদুল্লাহ আল মামুন, হাফেজ লাবিব হাসান নাহিদ ও হাফেজ মনিরুল ইসলামসহ স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অন্যদিকে একই সময়ে শ্যামনগরের কাশীমাড়ী এলাকায় ‘কাশীমাড়ীর সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এক ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে নানা ধরনের প্রতিবাদী ব্যানার, পোস্টার ও ঝাড়ু দেখা যায়।
সমাবেশে বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে নৈতিকতার বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পুরো এলাকার সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। অবিলম্বে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
কাশীমাড়ীর সমাবেশে বক্তব্য দেন ছলেমান কবির, শফিকুল ইসলাম দুলু, আজিজুল হক সরদার, বি এম আব্দুস সালাম ও ঢালী আবদুর রশিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। প্রকাশিত ভিডিওতে তাকে এক নারীকে নিয়ে একটি হোটেলের লবিতে প্রবেশ করতে এবং রিসেপশনে দায়িত্বরত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে ভেতরের দিকে যেতে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করা মরিয়ম আক্তার কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ভিডিওটি কবে, কোথায় এবং কোন পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে, তার সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে গত ২০ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অন্য একটি ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ওই ঘটনার বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলাম এক লিখিত বিবৃতিতে দাবি করেছিলেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী এবং ঘটনাটি রাজধানীর মগবাজারে তার শ্বশুরের কার্যালয়ে ঘটেছিল। পুরো বিষয়টিকে তিনি নিজের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্ত বলে উল্লেখ করেন।
.png)





