logo
Advertisement

এইচএসসি পরীক্ষার সুযোগ পেল প্রতারণার শিকার ৭ শিক্ষার্থী

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বগুড়া
এইচএসসি পরীক্ষার সুযোগ পেল প্রতারণার শিকার ৭ শিক্ষার্থী
পরীক্ষা দিচ্ছেন এইচএসসি শিক্ষার্থীরা। ছবি : সংগৃহীত

ফরম পূরণের টাকা জমা দিয়েও কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও প্রতারণার কারণে প্রথম দিনের পরীক্ষা দিতে না পারা বগুড়ার সেই সাত এইচএসসি পরীক্ষার্থী বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

Advertisement

শনিবার (৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় পাঁচজন অংশ নেন। বাকি দুজনের শুধু ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা থাকায় তারা ওই পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ছয়জন এবং সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন কেন্দ্রে গিয়েও প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড) না থাকায় এই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারেননি। বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা প্রশাসন, জেলা শিক্ষা অফিস এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ ব্যবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন করে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়।

প্রবেশপত্র পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের মো. হাসর, সম্রাট সরকার, তৌহিদুর রহমান তামিম, মইনুর ইসলাম, অমিত হাসান ও সাব্বির হোসেন এবং চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের সুমাইয়া আক্তার।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা নির্ধারিত সময়ে কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের কাছে ফরম পূরণের টাকা জমা দিলেও তা সময়মতো শিক্ষা বোর্ডে জমা দেওয়া হয়নি। ফলে তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি এবং প্রবেশপত্র ইস্যু করা হয়নি। এই জালিয়াতির কারণে তারা বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হারান। তবে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যম, শিক্ষক ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবারই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুক্রবার শিক্ষা বোর্ডে যাওয়ার নির্দেশনা পাই। বোর্ডের প্রয়োজনীয় কাজ শেষে শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে রাতেই তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সরকারের দ্রুত ও ইতিবাচক উদ্যোগের কারণেই বিষয়টির সমাধান সম্ভব হয়েছে।

সরকারি এম এইচ কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব অধ্যাপক আবুল কালাম আসাদ বলেন, মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ছয় শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে চারজন শনিবারের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। বাকি দুজন পরবর্তী ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

বগুড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যারা এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে মামলা করা হবে। আপতত সাত শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রথম দিনের যে পরীক্ষাটি তারা দিতে পারেনি, সে বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নেওয়ার জন্য শিক্ষা বোর্ড থেকে দ্রুতই নির্দেশনা আসবে।

বিষয় :