চার বছরেও হয়নি সাংবাদিক রুবেল হত্যার বিচার, মেলেনি ক্লু

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুষ্টিয়া
চার বছরেও হয়নি সাংবাদিক রুবেল হত্যার বিচার, মেলেনি ক্লু
নিহত সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রুবেল। ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার আলোচিত সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রুবেল হত্যাকাণ্ডের চার বছর পার হলেও মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। আসামি গ্রেপ্তার কিংবা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল সবকিছুতেই রয়ে গেছে ধোঁয়াশা। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত সাংবাদিকের পরিবার ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।

কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহল ও নিহতের পরিবারের দাবি, অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা কুশীলবদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

নিহত রুবেলের পরিবারের অভিযোগ, চার বছর পার হলেও তারা কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পাননি। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া এভাবে দীর্ঘায়িত হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয় সংবাদকর্মীরা মনে করেন, হাসিবুর রহমান রুবেল হত্যার সুষ্ঠু বিচার কেবল একটি পরিবারের সান্ত্বনা নয়, বরং এটি দেশের মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড়ো পরীক্ষা।

হতাশা প্রকাশ করে হাসিবুর রহমান রুবেলের ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, সম্প্রতি আমাকে ও আমার মাকে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা ডেকেছিলেন। দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন। আমরা শুধু আমার ভাই হত্যার বিচার চাই। চার বছর শেষ হয়ে পাঁচ বছরে পড়ল। আর কত সময় লাগবে? আমরা কি ভাই হত্যার বিচার পাব না?

কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের (কেইউজে) সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু। হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, বছরের পর বছর পার হলেও এ মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি। আমরা নিহত সাংবাদিক রুবেল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে এবার কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করব।

হত্যাকাণ্ডের পর চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও তদন্তের গোলকধাঁধায় আটকে আছে পুরো প্রক্রিয়া। এর মধ্যে একাধিকবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান এশিয়া পোস্টকে জানান, তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তবে কবে নাগাদ এই তদন্ত শেষ হবে বা কোনো সুনির্দিষ্ট ক্লু পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো আভাস মেলেনি।

এর আগে, ২০২২ সালের ৩ জুলাই রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের সিঙ্গার মোড় এলাকায় নিজের পত্রিকা অফিসে কাজ করছিলেন সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রুবেল। ওই সময় তার মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। ফোন পেয়ে তিনি অফিস থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তিনি, বন্ধ হয়ে যায় তার মোবাইল ফোনটিও। নিখোঁজের চার দিন পর, ৭ জুলাই কুমারখালী উপজেলার গড়াই নদী থেকে রুবেলের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে নিহত সাংবাদিক রুবেলের চাচা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে কুষ্টিয়াসহ দেশজুড়ে সাংবাদিক সমাজে শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সমাদৃত সাংবাদিক সংগঠনগুলো মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানের মতো ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে।

বিষয় :কুষ্টিয়া