logo

রাসিকের প্রকৌশল বিভাগে একই পদে দুই তত্ত্বাবধায়ক

রাসিকের প্রকৌশল বিভাগে একই পদে দুই তত্ত্বাবধায়ক
রাজশাহী নগর ভবন, প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাকের ও প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন পরাগ। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রকৌশল বিভাগে সৃষ্টি হয়েছে ভিন্ন এক প্রশাসনিক জটিলতা। অনুমোদিত পদ একটি হলেও সেখানে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন দুজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। এদের একজন স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক পদায়িত নিয়মিত কর্মকর্তা মো. খায়রুল বাকের এবং অন্যজন অতিরিক্ত হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আহমদ আল মঈন পরাগ।

নিয়ম অনুযায়ী, নিয়মিত কর্মকর্তা যোগদানের পর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা থাকলেও তা না করায় সংস্থাটিতে দ্বৈত শাসন ও প্রশাসনিক অস্পষ্টতা দেখা দিয়েছে।

তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া রাসিকের দাপ্তরিক নথি ও জনসংযোগ বিভাগ সূত্রে একই পদে দুই কর্মকর্তার বহাল থাকার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৪ সালের আগস্টে রাসিকের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী অবসরে যাওয়ার পর পদটি শূন্য হয়। পরবর্তীতে উপযুক্ত কর্মকর্তা না থাকায় ২২ আগস্ট জারি করা এক অফিস আদেশে নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন পরাগকে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এর প্রায় ১৪ মাস পর, ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগের এক আদেশে মো. খায়রুল বাকেরকে রাসিকের নিয়মিত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয় এবং তিনি যথারীতি কর্মস্থলে যোগদান করেন। তবে নিয়মিত কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পরও আহমদ আল মঈন পরাগকে অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে কোনো দাপ্তরিক নির্দেশ জারি করা হয়নি। ফলে একই পদে দুজন কর্মকর্তা বহাল রয়েছেন।

একই পদে দুই কর্মকর্তা অবস্থান করায় তাদের প্রশাসনিক সীমানা, অধীন জনবল পরিচালনা, দাপ্তরিক গাড়ি ব্যবহার এবং বেতন-ভাতাদিসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধার বিলি-বণ্টন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাসিকের প্রকৌশল বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, একই পদে দুজন থাকায় দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল অনুমোদন, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের তদারকি, অবকাঠামোগত নকশা পাস ও কারিগরি অনুমোদনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কোন কর্মকর্তার নির্দেশনা মানা হবে, তা নিয়ে সংশয়ে পড়ছেন অধীনস্থরা। এতে কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তীতে সিদ্ধান্তের দায়ভার নেওয়া নিয়েও প্রশাসনিক জটিলতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অব্যাহতি না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন পরাগ এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমাকে অফিসে আদেশের মাধ্যমে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত নতুন কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় আমি এখনো দায়িত্ব পালন করছি।

অন্যদিকে নিয়মিত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাকের এশিয়া পোস্টকে জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে তাকে এই পদে পদায়ন করা হয়েছে। তবে, একই পদে দুজনের উপস্থিতিজনিত প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়ে তিনি কোনো সরাসরি মন্তব্য না করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

এ ঘটনায় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সিনিয়র সহকারী (সচিব) সোহেল রানার কাছে দুই প্রকৌশলীর একই পদে দায়িত্ব পালনে প্রশাসনিক কাঠামো কী বলে, জানতে চাইলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

তবে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম এশিয়া পোস্টকে জানান, একই পদে দুই কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাতে পারবো।