টানা বৃষ্টিতে উঠে যাচ্ছে মহাসড়কের কার্পেটিং, শতাধিক স্থানে গর্ত

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ঝালকাঠি
টানা বৃষ্টিতে উঠে যাচ্ছে মহাসড়কের কার্পেটিং, শতাধিক স্থানে গর্ত
টানা বৃষ্টি বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

টানা বৃষ্টির কারণে খুলনা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠি-রাজাপুর অংশে পিচঢালা কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এ ছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজাপুর উপজেলার বাগড়ি বাজার এলাকা থেকে শুরু করে ঝালকাঠির বরিশাল প্রান্তের কালিজিরা ব্রিজ পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকচালকরা।

বাসচালক কবির সিকদার, নাসির হাওলাদার ও আরিফ হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দ্রুত সময়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে হচ্ছে। গত বছর বর্ষা মৌসুমে সড়কটির বেহাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে শুকনো মৌসুমে কোটি টাকা ব্যয়ে কার্পেটিং কাজ করা হয়। কিন্তু মাত্র সাত দিনের বৃষ্টিতেই সড়কটিতে আবার গর্ত হতে শুরু করেছে। এতে যানবাহন চলাচলে বেগ পেতে হচ্ছে। হুটহাট গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খানাখন্দ থাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে তিন চাকার ছোট যানবাহনগুলো।

স্থানীয় মোটরসাইকেল আরোহী হামিদ, রিয়াজ ও সাব্বির বলেন, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সড়কে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সময় এসব গর্ত দূর থেকে চোখে পড়ে না। ফলে এ রুটে নতুন কোনো চালক এলেই দুর্ঘটনার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইজিবাইকচালক হাবিব, রহমান ও কাদের বলেন, সড়কে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে খানাখন্দে গাড়ির চাকা আটকে যায়। স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালানো যায় না।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিক, অন্তর ও মাহিম বলেন, বৃষ্টি শুরু হতে না হতেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন। খানাখন্দ থাকায় যানবাহনের কর্দমাক্ত পানি ছিটকে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য পথচারীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকায় সড়কের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এতে যাত্রী ও যানবাহন চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আল-আমীন বলেন, রাজাপুর-ভান্ডারিয়া সীমান্তের কানুদাসকাঠি থেকে রাজাপুরের উত্তর পিংড়ি পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার সড়কে কার্পেটিং করা হয়েছিল। কানুদাসকাঠি থেকে রাজাপুর পর্যন্ত কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু রাজাপুর থেকে উত্তর পিংড়ি পর্যন্ত সড়কের পাশে গরু বিচরণ করায় গোবর রাস্তার ওপর যে প্রভাব ফেলেছে, তা বৃষ্টিতে দৃশ্যমান হয়েছে। আর গাবখান ব্রিজের ওপর যে গর্ত হচ্ছে, ওটা পুরোনো সমস্যা। বৃষ্টি কমলে সংস্কার করে সমাধান করা হবে।

বিষয় :ঝালকাঠি