অবশেষে বদলি হলেন নড়াইলের সেই আলোচিত মৎস্য কর্মকর্তা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নড়াইল
অবশেষে বদলি হলেন নড়াইলের সেই আলোচিত মৎস্য কর্মকর্তা
মো. আবু রায়হান। ছবি : সংগৃহীত

ঘুষের অভিযোগ, কার্যালয়ে হামলা ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচিত নড়াইল সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানকে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে মৎস্য অধিদপ্তর এ বদলির আদেশ জারি করে।

মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মো. আবু রায়হানকে খুলনার তেরখাদা উপজেলায় সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়। একই সঙ্গে নড়াইল সদরের দায়িত্ব কালিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, গত ২ জুলাই তার বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সোমবার (৬ জুলাই) তিনি খুলনার তেরখাদায় নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেন। এর আগে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তিনি ছুটিতে ছিলেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন রাতে অফিস কক্ষে ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা এবং নিজেকে মারধরের অভিযোগ এনে নড়াইল সদর থানায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. জিসানুরসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান।

এর পরদিন সংবাদ সম্মেলন করে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. জিসানুর। তিনি দাবি করেন, প্রদর্শনী বরাদ্দের নামে নেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে মৎস্য কর্মকর্তা তার ওপর হামলা চালান এবং পরবর্তীতে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। তবে মো. আবু রায়হান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন।

যদিও মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এই বদলিকে ‘নিয়মিত’ বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বলা হয়েছে এবং আদেশে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, সাম্প্রতিক সময়ের বিতর্ক ও ঘটনাপ্রবাহের জেরেই এই তড়িঘড়ি বদলি।

বিষয় :নড়াইল