logo

কক্সবাজারে তিন দিনের পর্যটন মেলা শুরু, হোটেল-মোটেলে চলছে ছাড়

কক্সবাজারে তিন দিনের পর্যটন মেলা শুরু, হোটেল-মোটেলে চলছে ছাড়
বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী পর্যটন মেলা। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে মেলার কার্যক্রম।

তিন দিনের মেলা উপলক্ষে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, বাইক ও স্পিডবোটে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ছাড়। সরকারি ছুটি থাকায় ইতিমধ্যে পর্যটকে ভরে উঠেছে সৈকত নগরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি শক্ত কমিটি গঠন করেছে। কক্সবাজারকে একটি পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলাই ওই কমিটির অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করতে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী আসবেন। বিশেষায়িত ব্লু-ইকোনমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করাসহ সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার আগামী দিনে একটি স্মার্ট নগরীতে পরিণত হবে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না বলেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে কক্সবাজারের উন্নয়নের জোয়ার শুরু হয়েছে। এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার আধুনিক ও মানসম্মত পর্যটন নগরীতে পরিণত হবে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সাগরের গর্জন, সৈকতের হাওয়া আর সংস্কৃতির উৎসব—এই তিনের মিলনে কক্সবাজার সেজে উঠেছে। এই মেলার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দেশের পর্যটন খাত এগিয়ে যাবে।

এদিকে মেলা উপলক্ষে হোটেল-মোটেলগুলোতে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। রেস্তোরাঁ, মোটরবাইক ও স্পিডবোটেও রয়েছে বিশেষ ছাড়।

হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম দিকদার বলেন, তিন দিনের মেলা ও সরকারি ছুটিকে কেন্দ্র করে এবার পাঁচ লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হতে পারে। ইতিমধ্যে হোটেলগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।

মেলায় প্রায় ৫০টি স্টল অংশ নিয়েছে। এসব স্টলে কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পণ্য ও সেবা তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি থাকছে আচার, শুঁটকি, পিঠাসহ স্থানীয় নানা খাবারের আয়োজন।

মেলার তিন দিনই থাকছে ফায়ার শো, ব্যান্ড শো, লোকজ সংগীত, সুফি ও কাওয়ালি, ফোক ও ডুয়েট গান। এর পাশাপাশি প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন, কৌতুক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও থাকবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় সৈকত তীরের মঞ্চে স্থানীয় শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবেন।