‘মাজারে খাসি মান্নত করছি আল্লাহ, এবার চাকরিটা পাইয়ে দেও’

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সিলেট
‘মাজারে খাসি মান্নত করছি আল্লাহ, এবার চাকরিটা পাইয়ে দেও’
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স থেকে টাকা গণনার সময় উদ্ধার হওয়া একটি হাতে লেখা চিরকুটে ফুটে উঠেছে এক বেকার যুবকের চরম আকুতি ও জীবনযুদ্ধের করুণ গল্প। শনিবার (১১ জুলাই) দিনভর মাজারের দানবাক্স খোলার পর নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারের পাশাপাশি পাওয়া যাওয়া এই চিঠিটি উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

চিঠির বিবরণ থেকে জানা যায়, একটি চাকরির জন্য ওই যুবক একের পর এক বিভিন্ন সরকারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৩ বার ব্যর্থ হয়েছেন। চিরকুটে নিজের ব্যর্থতার খতিয়ান তুলে ধরে তিনি লিখেছেন— পুলিশে তিনবার, নৌবাহিনীতে তিনবার, বিমান বাহিনীতে একবার, সেনাবাহিনীতে তিনবার, কারারক্ষী পদে একবার, বিজিবিতে একবার এবং ব্যাটালিয়নে একবার পরীক্ষা দিলেও তার চাকরি হয়নি। বারবার মাঠে গিয়েও কপাল খোলেনি তার।

আবেগঘন ওই চিরকুটে যুবকটি লিখেছেন, ‘আল্লাহ গো আমি কতো চেষ্টা করতাছি একটা চাকরি নেওয়ার জন্য, আল্লাহ তাও হয় না। অনেক বার চেষ্টা করছি, অনেক বার ব্যর্থ হয়েছি আল্লাহ। অনেক টাকা নষ্ট করছি আল্লাহ একটা চাকরির জন্য। মাঠে ব্যর্থ হয়ে গিয়েছি। আল্লাহ গো আমি আর পারছি না...’

ভবিষ্যতে যেন কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি পান, সেজন্য মান্নত করার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আল্লাহ এবার তোমার অলি হজরত শাহজালাল মাজারে আসিয়া খাসি মান্নত করছি, আমি এই মান্নত পূর্ণ করব। আল্লাহ তুমি এবার আমার জেল কারারক্ষী চাকরিটা পাইয়ে দেও। আমার মা-বাবার আশা পূর্ণ করে দেও।’

উল্লেখ্য, শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাজারের দানবাক্স ও ডেগ খুলে দ্বিতীয় দফায় ১৯ দিনের জমাকৃত অর্থ গণনা করা হয়। এতে বাংলাদেশি মুদ্রায় মোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। এর আগে গত ২২ জুন প্রথম দফায় চারদিনে জমা হওয়া ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হয়েছিল। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাজারের দান থেকে সংগৃহীত সব অর্থ জেলা প্রশাসকের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে।

বিষয় :সিলেট