কওমি ঘরানার দলগুলোকে জামায়াত জোট ছাড়তে চাপ হেফাজতের

কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের বহুল আলোচিত বৈঠকটি সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী বাবুনগর মাদ্রাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে হেফাজতের পক্ষ থেকে নীতিগত ঐক্যের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে কওমি দলগুলোকে বের করে আনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সভা শেষে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান বলেন, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা এক থাকব। এই ঐক্যের ফর্মুলা কী হবে, তা শীঘ্রই নির্ধারণ করা হবে। তবে ঐক্যের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা কোন কোন বিষয়ে তাঁরা একমত হয়েছেন, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত জানাননি হেফাজত মহাসচিব।
হেফাজতের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বিষয়টি নির্দিষ্ট না করা হলেও দলটির অভ্যন্তরীণ একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটে থাকা কওমি দলগুলোকে সেখান থেকে বের করে আনা।
ঐতিহাসিকভাবেই কওমি আকিদার আলেমদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শিক ও নীতিগত বিরোধ রয়েছে। ১১-দলীয় জোটে কওমিপন্থী দলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র অসন্তুষ্ট ছিলেন হেফাজত আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
সূত্রগুলো বলছে, মহাসচিবের ‘নীতিগতভাবে এক থাকার’ বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত জামায়াতের জোট ছাড়ার বিষয়ে সব দলের একমত হওয়ার বিষয়টিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
হেফাজত আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, সিনিয়র নায়েবে আমির ও হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা খলিল আহমদ কাসেমী এবং মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমানের যৌথ আহ্বানে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা জসিম উদ্দীন, নায়েবে আমির ও নানুপুর বড় মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা সালাহউদ্দীন নানুপুরী, মধুপুরের পীর আব্দুল হামিদ মধুপুরী, কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মাওলানা মাহফুজুল হক।
এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, নায়েবে আমির মাওলানা আলী উসমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, খেলাফত আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী এবং নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আমন্ত্রিত সাতটি দল—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট এবং নেজামে ইসলাম পার্টির শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কওমি অঙ্গনের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
.png)





