বর্ষার শুরুতেই নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চাঁদপুর
বর্ষার শুরুতেই নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা
নৌকা তৈরি করছেন কারিগররা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলায় নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলে ধুম পড়েছে নৌকা তৈরি ও পুরোনো নৌকা মেরামতের। পদ্মা, মেঘনা, ডাকাতিয়া ও ধনাগোদা—এই চার নদী বেষ্টিত চাঁদপুরের আটটি উপজেলাতেই এখন নৌকা তৈরির কারিগরদের দম ফেলার ফুসরত নেই। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের চাহিদামতো ছোট-বড় নৌকা তৈরিতে দিন-রাত হাতুড়ি-বাটালের শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে জেলার বিভিন্ন হাটবাজার।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে—জেলার হাইমচর, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর সদর, মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ, কচুয়া, হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তিসহ সবকটি উপজেলাতেই এখন নৌকা তৈরির ধুম লেগেছে। বিশেষ করে মুন্সীরহাট বাজার, নায়েরগাঁও বাজার, নারায়ণপুর, ধনারপাড়, বাংলা বাজার, কালির বাজার, কালিপুর, নন্দলালপুর, চরপাথালিয়া, আমিরাবাদ, ফরাজিকান্দি, মোহনপুর, এখলাসপুর, বাবুরহাট, সাচার, উয়ারুক ও টামটাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার কারিগররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চাঁদপুরের বিশাল চরাঞ্চলের মানুষের বারো মাসের জীবনযাত্রার সাথে মিশে আছে নৌকা। চরের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। চর এলাকা থেকে উৎপাদিত কৃষিজাত ফসল হাটে নেওয়া, যাতায়াত এবং মাছ শিকারের একমাত্র বাহন এই নৌকা। বর্ষা আসায় চরাঞ্চলসহ নদী তীরবর্তী অনেকেই বিভিন্ন হাট থেকে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা কেনার পাশাপাশি নতুন নৌকা তৈরি ও পুরোনো নৌকাগুলো মেরামত করছেন।

ধনারপাড় গ্রামের বাসিন্দা শাহদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রতি বছর এ সময়ে নৌকা তৈরি, মেরামত ও নতুন নৌকা কেনার হিড়িক পড়ে যায়। মানুষের যাতায়াত ছাড়াও গবাদি পশুর ঘাস কাটার কাজেও এটি ব্যবহার করা হয়। শুধু বর্ষাকালে নয়, চরের মানুষের জন্য ছোট-বড় এসব নৌকা নিত্যদিনের সঙ্গী।

নায়েরগাঁও এলাকার বাসিন্দা মো. সুমন সরকার বলেন, এবার অনেকেই নতুন নৌকা তৈরি করছেন। এক সিজনের যাতায়াত বা মাছ ধরার জন্য ১২ থেকে ১৩ হাতের ছোট সাইজের ডিঙি নৌকা ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় বাজার থেকে কিনে আনছেন অনেকে। অন্যদিকে ৩০ থেকে ৪০ হাতের একটি বড় নৌকা তৈরি করতে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। শ্যালো ইঞ্জিনচালিত এসব বড় নৌকা মূলত খেত থেকে বিপুল পরিমাণ ফসল আনা এবং দূর-দূরান্তের হাটে মালামাল ও মানুষ পারাপারের কাজে ব্যবহার করা হয়।

জেলার মোবারকদী এলাকার নৌকা ব্যবসায়ী অরুণ দাস বলেন, বর্ষা আসার মাস দুয়েক আগে থেকেই আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এবার মেহগনি, কড়ই এবং চাম্বল কাঠের নৌকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ছোট ডিঙি নৌকা বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঠ ও লোহার সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় নৌকার দাম কিছুটা বেশি। তারপরও প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে অর্ডার দিচ্ছেন, কারিগররা দিন-রাত কাজ করেও সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

নৌকা তৈরির কারিগর মো. আলমাছ বলেন, আমরা গরিব মানুষ। কাজ করতে পারলে কপালে খাবার জোটে, না পারলে নাই। বর্ষা মৌসুমে নৌকা তৈরি করে কোনো রকমে সংসার চালাই। কিন্তু এই মৌসুম শেষ হয়ে গেলে আমাদের আর কাজ থাকে না। এভাবে তো আমাদের জীবনমান উন্নত হতে পারে না। তিনি এই মৌসুমি পেশাজীবীদের জন্য সরকারি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

বিষয় :চাঁদপুর