তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তীব্র স্রোত ও পানির চাপে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২২ মিটার, যা বিপৎসীমার ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পাউবো সূত্র জানায়, উজানে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে এর আগে গত ২৩ জুন প্রথমবারের মতো ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও পরদিন তা নেমে যায়। তবে কয়েক দিন ওঠানামার পর রোববার দুপুর থেকে পানি আবারও দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং সন্ধ্যায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও ফসলিজমি তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। আকস্মিক এই বন্যায় নদীপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি পরিবারের সদস্যরা। বন্যার পানির সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় সাপ ও বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়েছে।
এদিকে পানির চাপ বাড়তে থাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদীতীরবর্তী এলাকার উঁচু সড়কগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে ফেলে রাখে। বর্ষা মৌসুমে এসে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়। তাদের দাবি, সময়মতো টেকসই সংস্কার করা হলে বর্তমানে বাঁধগুলো ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ত না।
তিস্তাপাড়ের গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা আজিজার রহমান বলেন, বিকেল থেকে পানি হুহু করে বাড়ছে। চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িতে ইতোমধ্যে পানি উঠেছে। পানির যে চাপ, তাতে বড় বন্যার আশঙ্কা করছি। বড় বন্যা হলে দীর্ঘদিন সংস্কার না করা বাঁধগুলো ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বন্যার সময় নদীপাড়ের আমরা মানুষজন নির্ঘুম রাত কাটাই।
নদীপাড়ের গরিবুল্লাহরটারী গ্রামের নাজিমুদ্দিন বলেন, আজকে পানি বাড়ার পরিমাণটা অনেক বেশি। চরাঞ্চলের অনেক বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি এলাকায় শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হয়। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি রাখার জায়গা থাকে না। চারদিকে শুধু পানি আর পানি।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানের ঢলে রোববার দুপুর থেকে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। সন্ধ্যা ৬টায় তা বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে নদীতীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলে হালকা বন্যা দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।






