আহনাফ কি ফিরে আসবে…

আহনাফ নিহানের বয়স পাঁচ বছর। দুই হাতে তার প্রতিদিন বই-খাতা বহন করার কথা। কিন্তু এই বয়সে তার একটি হাত কেটে ফেলতে হয়েছে। এখন সে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে। শিশুটি গত ১০ দিন ধরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।
আহনাফের বাবা খাইরুল ইসলাম জানান, বাসার বারান্দার গ্রিল ধরে আম খাওয়ার সময় বাসার পাশে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার থেকে বিকট শব্দ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিহান ঝলসে যায়। এতে তার দুই হাত এবং শরীরের প্রায় ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার চিকিৎসকরা তার বাম হাত কেটে ফেলেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাওন বিন রহমান শিশুটি চিকিৎসাধীন থাকার বিষয় নিশ্চিত করেছেন।
তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, শিশুটিকে আমাদের এখানে এইচডিইউতে (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শিশুটির বাবা খাইরুল ইসলাম গাজীপুর জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উচ্চমান সহকারী হিসেবে কর্মরত। গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার উত্তরখামের গ্রামে। পরিবার নিয়ে বসবাস করেন গাজীপুর মহানগরের উত্তর ছায়াবীথি শ্মশানমোড় এলাকায়। সেখানে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী মো. সাইফুল ইসলামের পাঁচতলা ভবনের তৃতীয়তলায় ভাড়ায় থাকেন।
গত ২০ জুলাই ওই বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আম খাচ্ছিল খাইরুল ইসলামের ছেলে আহনাফ। সেদিন বিকেল চারটার দিকে আহনাফ আম খাওয়ার সময় বিকট শব্দ হয়। সঙ্গে সঙ্গে ঝলসে যায় আহনাফের শরীর। পরে জানা গেল বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার থেকে বিকট শব্দ হয়েছিল। ট্রান্সফরমারের স্পার্কে দগ্ধ হয় আহনাফ।
খাইরুল ইসলাম বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে তারা ওই ভবনে বসবাস করছেন। গত মার্চে গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরে এসে তারা দেখতে পান, বারান্দা ঘেঁষে নতুন একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং তাতে তিনটি ট্রান্সফরমার বসানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সে সময় বাড়ির মালিকের স্ত্রী মনিরা বেগম ও ভবনের তত্ত্বাবধায়ক মো. ইলিয়াসের কাছে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো কর্ণপাত করেনি। বারান্দায় ইটের সুরক্ষাপ্রাচীর বা কাচ দিয়ে ঘিরে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে বাড়ির মালিকের স্ত্রী মনিরা বেগম জানান, তিনি ভবনের তত্ত্বাবধায়ক মো. ইলিয়াসকে দেখার জন্য বলেছিলেন। নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি জানার পর খাইরুল ইসলামকে অন্য একটি ফ্ল্যাটে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি তাতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ গাজীপুরের ছায়াবীথি জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, ভবনের বাসিন্দারা যে স্থান দেখিয়েছিলেন, নিয়ম মেনে সেখানে খুঁটি ও ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)






