ফেসবুকে ‘বাঁচান’ স্ট্যাটাসের ২৪ ঘণ্টাও মেলেনি চিকিৎসকের খোঁজ

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দা ও পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ আনসার উদ্দিন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি আকুল স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘কালো একটা নোহা গাড়ি আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। মোবাইল নিয়ে ফেলতেছে। আমাকে একটু বাঁচান।’ এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং তার আর কোনো খোঁজ মেলেনি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের মাঝেরঘোনা এলাকার বাসিন্দা আনসার উদ্দিন বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে চকরিয়া উপজেলার শেভরন হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্ত্রী আঁখি মণির সঙ্গে শেষবার কথা বলেন তিনি এবং জানান, হাসপাতালের কাজ শেষ করে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে তিনি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। কিন্তু গভীর রাত পার হয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাত ৩টার দিকে তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসটি স্বজনদের নজরে আসে।
এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তির স্ত্রী আঁখি মণি পেকুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনি জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওনার সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। এরপর থেকেই ফোন বন্ধ। পরে ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানতে পারি উনি অপহৃত হয়েছেন। আমার চারটি ছোট সন্তান রয়েছে, যারা বাবাকে ছাড়া এক মুহূর্তও থাকতে পারে না। গতকাল থেকে ওরা না খেয়ে, না ঘুমিয়ে শুধু কান্না করছে। আমি সকলের কাছে আকুল অনুরোধ জানাচ্ছি, আমার অবুঝ সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও ওনাকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে এনে দিন।
নিখোঁজ আনসার উদ্দিনের ভগ্নিপতি আবু জার গিফারি বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই তার মোবাইল বন্ধ। আমরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাইনি। পুরো পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, আনসার উদ্দিন চকরিয়া এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ায় প্রথমে পরিবারকে চকরিয়া থানায় জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে জিডি না নেওয়ায় পরবর্তীতে পেকুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
.png)





