Advertisement

গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও ডাকঘরের লেটার রাইটার

মনজু শেখ, রাজবাড়ী
গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও ডাকঘরের লেটার রাইটার
অভিযুক্ত শিহাব মৃধা। ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর প্রধান ডাকঘরের লেটার রাইটার (হেল্পিং হ্যান্ড) শিহাব মৃধার (৩০) বিরুদ্ধে মেয়াদি সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি পাসবইয়ের বদলে সাদা স্লিপ দিয়ে গ্রাহকদের এই বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। এ ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ডাক অধিদপ্তর।

অভিযুক্ত শিহাব মৃধা রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের রশোড়া বাঘিয়া গ্রামের আয়ুব আলী মৃধার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে লেটার রাইটার (হেল্পিং হ্যান্ড) হিসেবে কাজ করতেন।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, টাকা জমা দেওয়ার পর তাদের একটি সাদা স্লিপ দেওয়া হতো। পরে পাসবই দেওয়া হবে বলে দিনের পর দিন ঘোরানো হতো। অনেকেই পাঁচ মাস আগে টাকা জমা দিলেও এখন পর্যন্ত তাদের নামে কোনো হিসাব খোলা হয়নি কিংবা সরকারি অ্যাকাউন্টে সেই টাকা জমা পড়েনি।

মনজু মণ্ডল নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, ঈদের পর তিন লাখ টাকা শিহাবকে দিই। সে একটি সাদা স্লিপ দেয়। পরে বারবার পাসবই চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে। এখন শুনছি সে পালিয়ে গেছে। আমাদের টাকা কোথায়, জানি না।

নাসরিন খাতুন নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, এক মাস আগে টাকা জমা দিয়েছি। এখনও হিসাব বই পাইনি। পরে জানতে পারি আমার টাকার কোনো এন্ট্রিই হয়নি।

শাহানাজ নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, দুই লাখ টাকা গুনে নিয়ে যাই। শিহাব বলে ১৫ হাজার টাকা কম আছে। পরে বাধ্য হয়ে আরও ১৫ হাজার টাকা দিই। অথচ সেই টাকাও কোনো হিসাবে জমা হয়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শিহাব সরকারি কর্মচারী না হলেও ডাকঘরের কাউন্টার থেকেই গ্রাহকদের তার কাছে পাঠানো হতো। ফলে শুধু শিহাব একা নন, এ ঘটনায় ডাকঘরের দায়িত্বরত অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভূমিকাও তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তারা।

ডাকঘর কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৪০ জন ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে এবং আত্মসাতের পরিমাণ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রতিদিনই নতুন নতুন ভুক্তভোগী অভিযোগ নিয়ে ডাকঘরে আসছেন। ফলে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ও আত্মসাৎ করা টাকার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের দাবি, শিহাব মৃধা এক কোটি টাকারও বেশি অর্থ নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এখনও অনেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করতে পারেননি। ফলে তদন্ত শেষ হলে আত্মসাতের প্রকৃত পরিমাণ আরও বাড়বে বলে ধারণা তাদের।

অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কুষ্টিয়া বিভাগীয় ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা তদন্তে এসে শিহাবকে হাতেনাতে ধরলেও তাকে পুলিশে না দিয়ে ছেড়ে দেন। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। ঘটনাটি তদন্তের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ঘটনার পর চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ডাক অধিদপ্তর। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের চিহ্নিত করা, দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের নবাগত পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ বলেন, শিহাব মৃধা সরকারি কর্মচারী ছিলেন না। তিনি হেল্পিং হ্যান্ড হিসেবে লেখালেখির কাজ করতেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ বা অনুমতি তার ছিল না। অভিযোগ অনুযায়ী তিনি টাকা নিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

বিষয় :রাজবাড়ী