১০ দিন পর টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে ট্রলার চলাচল শুরু

টানা ১০ দিন বন্ধ থাকার পর আবার চালু হয়েছে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী ট্রলারের চলাচল।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে টেকনাফ থেকে ছেড়ে যাওয়া তিনটি ট্রলার দুপুর দুইটার দিকে নিরাপদে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মো. অনীক চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ট্রলারগুলোতে মোট ১৫৯ জন যাত্রী ছিলেন। একইসঙ্গে দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য খাদ্যসামগ্রী ও সরকারি বরাদ্দের চালও ছিল।
টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ১ জুলাই থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ ছিল। আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শনিবার বেলা ১১টায় টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী সার্ভিস ট্রলার ঘাট থেকে তিনটি ট্রলার সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টার নৌযাত্রা শেষে বিকেল ২টার দিকে নিরাপদে সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছে ট্রলারগুলো।
ট্রলারগুলোতে মোট ১৫৯ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ৮০ জন পুরুষ, ৪০ জন নারী এবং ৩৯ জন শিশু। যাত্রীদের পাশাপাশি দ্বীপের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও পরিবহন করা হয়।
সেন্টমার্টিন বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম এশিয়া পোস্টকে বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১ জুলাই থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ ছিল। ১০ দিন পর শনিবার তিনটি সার্ভিস ট্রলার যাত্রী ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে নিরাপদে সেন্টমার্টিনে পৌঁছেছে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে জানান, শনিবার সকালে টেকনাফে আটকে পড়া যাত্রীদের সঙ্গে ট্রলারে করে তিনিও নিরাপদে সেন্টমার্টিনে ফিরেছেন।
তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্বীপের জন্য ৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৩০০ পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মো. অনীক চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে বলেন, আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় শনিবার তিনটি যাত্রীবাহী ট্রলারে টেকনাফে আটকে থাকা যাত্রীরা নিজ গন্তব্যে ফিরেছেন।
তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বরাদ্দকৃত ৫ টন চালের মধ্যে শনিবার ৩ টন সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়। বাকি ২ টন রোববার পাঠানো হবে। পাশাপাশি দ্বীপের ৩০০ পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ইউএনও।
এদিকে সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের জন্য জারি করা সতর্কসংকেত প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




