সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টার সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বান্দরবান সদর পয়েন্টে সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ৯২ সেন্টিমিটার এবং লামা পয়েন্টে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল বলেন, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়েছে। বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে পড়তে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা শহরের আর্মিপাড়া, শেরেবাংলা, ইসলামপুর, ওয়াপদা এলাকা এবং শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্না, যাতায়াত ও নিত্যদিনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।
জেলা শহরের বনরূপা, নিউ গুলশান, কালাঘাটা ও নতুনপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের খবর পাওয়া গেছে। অনেক স্থানে পাহাড়ের মাটি ধসে বসতঘর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পাহাড়সংলগ্ন বসবাসকারীরা উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন।
স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। পাহাড়ঘেঁষা বসতি এবং নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তারা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়, ত্রাণ সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
বনরূপা এলাকার বাসিন্দা মো. আবদুল করিম বলেন, বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়েছে। আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি। আবার বৃষ্টি বাড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আর্মিপাড়ার বাসিন্দা রাবেয়া বেগম বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘরের ভেতরে পানি। রান্নাবান্না করতে পারছি না। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
শেরেবাংলা এলাকার বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে গেছে। জরুরি প্রয়োজনেও বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সহায়তা প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়া, পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান না করা এবং নদীর স্রোতপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীতীরবর্তী ও পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন স্থানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের জরুরি কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।





