Advertisement

তিন দশকেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া, ঝুঁকিতে বাগেরহাটের বিসিক ভবন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বাগেরহাট
তিন দশকেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া, ঝুঁকিতে বাগেরহাটের বিসিক ভবন
বাগেরহাট বিসিকের দাপ্তরিক ভবন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

প্রতিষ্ঠার তিন দশক পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বাগেরহাট বিসিক (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন) শিল্পনগরীতে। ১৯৯৫ সালে নির্মিত প্রশাসনিক ভবনটিও বর্তমানে চরম জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দেয়ালের ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া আর রডে মরিচা ধরা এই নাজুক অবকাঠামোর ভেতরেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলছে সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম। ফলে এখানে সেবা নিতে আসা শিল্প উদ্যোক্তা, শ্রমিক এবং কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বিসিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিসিকের প্রধান প্রকৌশলী ভবনটি পরিদর্শন করে জেলা কনডেমনেশন কমিটির মাধ্যমে এটিকে কনডেম (ব্যবহারের অনুপযোগী) ঘোষণার নির্দেশনা দিয়েছেন। বর্তমানে সেই প্রক্রিয়া চলমান। তবে ভবনটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষিত না হওয়ায় বাধ্য হয়ে এখানেই সব ধরনের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিদিন ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ভবনে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি জেলার প্রায় ৫২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন উপজেলার সেবাগ্রহীতারা নিয়মিত এখান থেকেই সেবা নিচ্ছেন।

১৯৯৫ সালে প্রায় ২১ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা বাগেরহাট বিসিক শিল্পনগরীর ১২৩টি প্লটের সবই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এখানে ৫২টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে ৪৩টি চালু রয়েছে। দুটি নারিকেল তেলের মিল পুরোপুরি বন্ধ। এছাড়া কাঁচামালসংকটে বাকি তেলের মিলগুলোতেও উৎপাদন সীমিত হয়ে পড়েছে। শিল্পনগরীতে নারিকেল তেল, অটো রাইস ও ফ্লাওয়ার মিল, সরিষা ও ডাল মিল, ইজিবাইক অ্যাসেম্বলিং, ব্যবহৃত প্লাস্টিক পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কোকোনাট ফাইবার মিলসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে রয়েছে পল্লী বিদ্যুতের একটি উপকেন্দ্র।

কাঁচামালসংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে পড়েছে। ফলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। আব্দুল হালিম নামে এক শিল্প উদ্যোক্তা বলেন, প্রশাসনিক ভবনে কাজ করতে এলেই ভয় লাগে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন। পাশাপাশি কাঁচামালসংকটের কারণে উৎপাদনও অনেক কমে গেছে।

বিসিকের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। ছবি: এশিয়া পোস্ট
বিসিকের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মো. শহিদুল ইসলাম নামে আরেক উদ্যোক্তা বলেন, শিল্পনগরীর সার্বিক পরিবেশ এখন আর বিনিয়োগবান্ধব নেই। পানিসংকট ও জরাজীর্ণ ভবনসহ নানা সমস্যায় উদ্যোক্তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এ খাত আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তবে বিসিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে শিল্পনগরীর প্রায় সব অভ্যন্তরীণ সড়ক ও ড্রেনের সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪০০ ফুট রাস্তা ও ড্রেন সংস্কার বাকি রয়েছে, যা ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সুপেয় পানিসংকট নিরসনে সাবমারসিবল পাম্প স্থাপনের কাজ করছে বিসিকের প্রকৌশল বিভাগ। এ বাবদ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে কোনো পানির বিল নেওয়া হয় না।

বাগেরহাট বিসিক শিল্পনগরীর (ভারপ্রাপ্ত) উপব্যবস্থাপক মো. সোহাগ হোসেন বলেন, উপকূলীয় পরিবেশ, বাতাস ও মাটিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা এবং দীর্ঘদিনের ব্যবহারের কারণে এখানকার ভবনগুলোয় মরিচা ও ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক ভবনটিও একই সমস্যায় ভুগছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে প্রধান প্রকৌশলী ভবনটি পরিদর্শন করে জেলা কনডেমনেশন কমিটির মাধ্যমে ‘কনডেম’ ঘোষণার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে সে প্রক্রিয়াটি চলমান।

তিনি আরও বলেন, নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাব ও প্রাক্কলন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে। এছাড়া ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে শিল্পনগরীর অভ্যন্তরীণ সড়ক ও ড্রেন উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে আরও বড় প্রকল্প প্রয়োজন।

বিষয় :বাগেরহাট